ভালো-খারাপ সব জায়গাতেই আছে: দোয়েল ম্যাশ

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

ভালো-খারাপ সব জায়গাতেই আছে: দোয়েল ম্যাশ

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০১ ১৯ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১১:৫৫ ২৩ মে ২০২১

ফাইল ছবি: দোয়েল ম্যাশ

ফাইল ছবি: দোয়েল ম্যাশ

মডেল ও অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল। শোবিজে তিনি দোয়েল ম্যাশ নামেও পরিচিত। সুদর্শনা এ অভিনেত্রীর মিডিয়ায় আগমন দেশের নামধারী একটি পত্রিকার কাভারের মাধ্যমে, ২০১৪ সালে। এরপর নিয়মিত হয়ে যান শোবিজে। বড় কিংবা ছোট- উভয় পর্দায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। 

মডেলিংয়ের পাশাপাশি ‘কোড নেম আলফা’ ও ‘চন্দ্রাবতী কথা’ নামে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ‘কবি স্বামীর মৃত্যুর পর আমার জবানবন্দি’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কাজ করেছেন মিউজিক ভিডিওতে। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক, ওয়েব সিরিজ ও মডেলিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তার এই ব্যস্ততার মাঝেই মুখোমুখি হন ডেইলি বাংলাদেশ-এর। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মনা রয়। 

দোয়েল ম্যাশ

আপনার অভিনীত ‘চন্দ্রাবতী কথা’ মুক্তি পাচ্ছে। কেমন লাগছে আপনার?
দিলরুবা দোয়েল:
এটা আমার দ্বিতীয় সিনেমা। এই সিনেমাটির সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এন রাশেদ চৌধুরী ভাই পরিচালিত ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ছবিটি ষোড়শ শতকের প্রথম নারী কবির গল্পে নির্মিত হয়েছে। আমি নারী হিসেবে সব সময় ইন্ডিপেনডেন্ট হায়ার চেষ্টা করেছি। আসলে ঐ জায়গাটা আমাকে খুব একট্রাক্টিভ করে। তবে আমি আমার জায়গা থেকে ১০০% ভালো করার চেষ্টা করেছি। যা মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা বলতে পারবেন।

চন্দ্রাবতী কথা’র সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হয়েছিলেন?
দিলরুবা দোয়েল:
আমি ‘আলফা’ সিনেমা করার পরই এই সিনেমায় অভিনয়ে যুক্ত হই। যখন ‘আলফা’ সিনেমায় কাজ করছিলাম তখন তারা আমাকে সেটে দেখতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই সিলেক্ট করেন। অথচ আমি সেটা জানতাম না, পরে শুনেছি। তারপর উনারা আমার ফোন নাম্বার কালেক্ট করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এভাবে করেই চন্দ্রাবতী কথা’র সঙ্গে যুক্ত হই।

চন্দ্রাবতী কথা’র জন্য আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিলো?
দিলরুবা দোয়েল:
আসলে প্রস্তুতি বলতে রাশেদ ভাইয়ের সঙ্গে স্ক্রিপ্ট পড়া বিভিন্ন সময়ে রিহার্সাল করেছি। সিনেমাটা আমরা অনেক আলোচনা করেছি। আমরা কিন্তু জানতাম না ঐসময়ে তারা কি রকমের পোশাক আশাক পড়তেন? তাদের গহনা কেমন ছিলো? আর সিনেমাটা ময়মনসিংহের গীতিকবিতা, তাই আমাকে পুরো সিনেমাতে ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলতে হয়েছে। এটা আমার জন্য প্রথমে সহজ ছিলো না। 

দোয়েল ম্যাশ

যেহেতু আমি রংপুরের মেয়ে তাই আমি রংপুরের ভাষা ছাড়া অন্য ভাষা তেমন পারতাম না। আমাকে ময়মনসিংহের ভাষা রপ্ত করতে হয়েছে। আসলে এটা পুরো টিম ওয়ার্ক ছিলো, আর রাশেদ ভাইয়ের সব ক্রেডিট। উনার এতো পড়াশোনা ডেডিকেশন,প্যাশন ছিলো আমরা সবাই ঐ জায়গাটা থেকে কাজটা করতে পেরেছি। আমিও যে কাজটা করি তা ১০০% মনোযোগ দিয়ে করি। সিনেমাটার শুটিংয়ের সময় আমাদেরকে দীর্ঘ সময় সেখানে থাকতে হয়েছিলো। তখন প্রচণ্ড শীত ছিলো যেখানে সবাই ডাবল ডাবল পোশাক পড়ে শুটিং করছিলো, সেখানে আমি শুধু মাত্র একটা শাড়ি পড়ে শুটিং করেছিলাম।

বর্তমানে কি কি কাজ আপনার হাতে রয়েছে?
দিলরুবা দোয়েল:
এই মুহূর্তে নতুন কোন কাজ হাতে নেইনি। মুক্তিযুদ্ধের গল্পের সিনেমা ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’তে কাজ করছি। নুরুল আলম আতিক ভাই পরিচালিত এই সিনেমায় আমার সহ শিল্পী হিসেবে আছেন- লায়লা হাসান, আহমেদ রুবেল, অশোক ব্যাপারী, আশীষ খন্দকার, জয়রাজ, স্বাগতাসহ আরো অনেকে। সৈকত নাসির ভাইয়ের ‘ক্যাসিনো’ সিনেমায় কাজ করলাম।

এটা আমার প্রথম বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা। আমি আশাকরি দর্শকরা আমাকে এই সিনেমাতে পছন্দ করবেন। তানিম পারভেজ ভাইয়ের ওয়েব সিরিজে কাজ করছি ‘সিক্স’ শিরোনামে এই ওয়েব সিরিজে।  

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায়  দ্বিতীয় বারের মতো লকডাউন চলছে, বর্তমানে আপনার চাওয়া কি?
দিলরুবা দোয়েল:
আমাদের পৃথিবীটা ঠিক হয়ে যাওয়াটাই জরুরী। আর এখন আমাদের সাবধানে থাকা নিরাপদে থাকার জন্য ঘরে থাকা দরকার। আমরা জানি একটা মহামারী গেলে তো এটা ঠিক হতেও সময় লাগে। প্রত্যকটা মহামারীর পর আমরা দেখেছি দুই তিন বছর একটা খারাপ সময় যায়। নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। সুন্দর আলোর প্রত্যাশা করি। প্রত্যেকই তো আমরা ঘরে বসেই আছি। এতো ঝুট ঝামেলা পোহাইও আবারো সুন্দর একটা পৃথিবী দেখবো। বাচ্চারা আগের মতো ঘুরে বেড়াবে। সবাই দল বেঁধে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাবে।

দোয়েল ম্যাশ

আপনি সিনেমায় কাজ করছেন, নাটকে কাজ করছেন, ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করছেন এবং পাশাপাশি মডেলিং করছেন। নিজেকে কোন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে চান?
দিলরুবা দোয়েল:
আমি অভিনয় করতে ভালোবাসি। আমার ফোকাস অভিনয়ে। যেখানে অভিনয় করার জায়গা আছে আমি অভিনয় করবো। 

মিডিয়াতে কাজ করতে গিয়ে কখনো কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?
দিলরুবা দোয়েল:
না। মডেলিং, নাটক, সিনেমা, ওটিটি প্লাটফর্ম আমি এখন পর্যন্ত জোর গলায় বলতে পারি আমি কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়নি। আমি যখন আগে পেপার পড়তাম বা এখনও যখন দেখি আমার কাছে অবাক লাগে। ভালো-খারাপ তো সব জায়গায় আছে। নিজেদেরকে এইসব মেইনটেইন করে চলতে হবে। আমাদের দেশে শোবিজের মানুষদের নিয়ে বেশি কথা হয়। যেমন অনেকে বলে ওই দেখো এক বাচ্চার মা হাফপ্যান্ট হাতকাটা গেঞ্জি পড়ে যাচ্ছে। মানুষ আসলে এগুলো নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করেন।  

সমাজে একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে চলাটা আপনার জন্য কতোটা কঠিন?
দিলরুবা দোয়েল:
প্রথমে সহজ ছিলো না এখন যতোটা সহজ। আমি আসলে বলতে চাই যাদের জীবনে এটা ঘটে যায় তার মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। আপনি না খেয়ে থাকবেন কিন্তু মনের অবস্থা খুব শক্ত রাখবেন তাহলেই আপনি সবকিছু জয় করতে পারবেন। আপনি মানসিকভাবে শক্ত থাকলে আপনি আপনার বাচ্চাকে ভালো একটা পরিবেশ দিতে পারবেন,ভালো সময় দিতে পারবেন।

দোয়েল ম্যাশ

টুকটাক সমস্যা হতো আমি আমার মতো করে ওভার কাম করে আসছি।এখনো মাঝে মাঝে পড়তে হয়। অনেকেই আমার ছেলেকে বলে তোমার বাবা কই? তোমার বাবা আসেনি? থাকেনা? আমি আমার ছেলেকে আমি ওইভাবে বড় করেছি। ও এগুলো এড়িয়ে যায়।

ভবিষ্যতে কি আপনার নতুন করে আবারও বিয়ে করে সংসারী হওয়ার ইচ্ছা আছে?
দিলরুবা দোয়েল:
আপাতত আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে বেশি মনোযোগী। আমার ফোকাস আমার ক্যারিয়ারের দিকে। নতুন করে বিয়ে শাদী করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস