আপাতত এগুলো নিয়ে বলতে চাচ্ছি না: নিরব

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ৩০ ১৪২৭,   ২৯ শা'বান ১৪৪২

আপাতত এগুলো নিয়ে বলতে চাচ্ছি না: নিরব

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৮ ১৬ মার্চ ২০২১  

নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে এগারো বছর পার করে দিয়েছেন চিত্রনায়ক নিরব। র‌্যাম্প মডেলিং থেকে টিভি নাটকে অভিনয় নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন তিনি। ২০০৯ সালে শাহীন-সুমনের ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। 

এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নিবরকে। কাজ করে চলেছেন একের পর এক ছবিতে। বর্তমানে তিনি ‘ফিরে দেখা’ ছবিতে অভিনয় করছেন। অভিনয়ের মাঝেই মুখোমুখি হন ডেইলি বাংলাদেশ-এর। তার সমসাময়িক ব্যস্ততা দিয়ে কথা বলেছেন রুম্মান রয়ের সঙ্গে।

শুরুতেই আপনার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই
নিরব:
বর্তমানে নিজ জেলা রাজবাড়ীতে আছি। এখানে রোজিনা আপার পরিচালনায় ‘ফিরে দেখা’ ছবির শুটিং করছি। টানা শুটিং করে ঢাকায় ফিরবো।

বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত অভিনেত্রী রোজিনার পরিচালনায় প্রথম ছবিতে আপনি কাজ করছেন। আপনার অনুভূতি কেমন?
নিরব:
রোজিনা আপা যখন লন্ডনে ছিলেন তখনই তার সিনেমার গল্পটা শুনিয়েছেন। আপা যখন তার সিনেমায় আমাকে অভিনয়ের জন্য বলছেন, আমি স্ক্রিপ্ট, ক্যারেক্টার, ফিন্যান্সিয়াল জায়গায় একটাও প্রশ্ন করি নাই। কারণ তার সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য বিশাল বড় অ্যাচিভম্যান্ট হবে। সেই জায়গা থেকে অভিনয়টা করা। রাজবাড়ীতে আমরা বেশ কয়েক দিন ধরে শুটিং করছি। খুব ভালো কাজ হচ্ছে। রোজিনা আপার ডিরেকশনে কাজ করতে পারা এটা আমার জন্য বিশাল পাওয়া।

‘ফিরে দেখা’ ছাড়া আপনার আর কি কি সিনেমা হাতে রয়েছে?
নিরব:
অনন্য মামুনের ‘কসাই’, আসিফ ইকবাল জুয়েলের ‘চোখ’। বন্ধন বিশ্বাসের পরিচালনায় অপু বিশ্বাসের সঙ্গে ‘ছায়াবৃক্ষ’তেও অভিনয় করছি। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় আছে সৈকত নাসির পরিচালিত বুবলীর সঙ্গে আমার প্রথম সিনেমা ‘ক্যাসিনো’। এছাড়াও পূজা চেরির সঙ্গে ‘ক্যাশ’ সিনেমার শুটিং শুরু হবে। তাছাড়াও সামনে আমি আরো কিছু প্রজেক্টে কাজ করবো। আপাতত এগুলো নিয়ে বলতে চাচ্ছি না।

বর্তমানে আপনার হাতে তো বেশ কিছু সিনেমা। তাহলে কি এখন আপনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুসময় পাড় করছেন?
নিরব:
 না এটা আসলে আমার ক্যারিয়ারের জন্য সুসময় না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি পরবর্তীতে এখন মানুষের যে অবস্থা, তাতে চলচ্চিত্রের কি হবে? এসব চিন্তা করলে অবশ্যই বর্তমানে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে এবং এগুলো ভালো লাগার বিষয়। এতো কিছুর পরেও আমরা সিনেমায় ব্যাক করতে পারবো, সিনেমায় এতো কাজ শুরু হবে আমরা তো এটাই ভাবতে পারি নাই।

আমি মনে করি সে হিসেবে বলবো এটা অবশ্যই আমার জন্য ভালো সময়। শুধু ভালো কাজ করলাম ৫/৭ টা ছবি থাকলো তা তো হলো না। প্রজেক্ট ভালো, সবকিছু মিলিয়ে এটা আমার জন্য ভালো সময় কাটছে। এটা শুধু আমার জন্য না চলচ্চিত্রের সবার জন্য।

একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করলে সেখানে কাজের মান ধরে রাখা কিংবা চরিত্রগুলো ঠিকঠাক উপস্থাপনা করা কি সম্ভব হয়?
নিরব:
প্রথমত কাজের মানের দিকটা তো ঠিক করার দায়িত্ব আমার না। এটার দায়িত্ব হচ্ছে পরিচালকের। প্রযোজক তিনি একটি সিনেমার কাজের মান বাড়ানোর জন্য পরিচালককে টাকা দিবেন। যেহেতু ডিরেক্টর আমার মতো টানা শিডিউলে কাজ করছেন না, সো সে তো পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে প্রি-প্রোডাকশন, পোস্ট-প্রোডাকশন করার। ঐ জায়গায় মনে হয় ঐগুলো ঠিক আছে।

আর আমার জায়গা থেকে যেমন, আমি গত নভেম্বর, ডিসেম্বর কাজ করেছি। মায়ের মৃত্যুর পর আমি জানুয়ারিতে আর কোনো কাজ করিনি। ৪০ দিনের একটা ব্রেক ছিলো। ঐসময়ে একটা প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। তারপর শুরু করলাম ‘চোখ’ সিনেমার কাজ। সেখানে ভিন্ন একটা গেটাপে হাজির হয়েছি। ঐ জায়গা থেকে মনে হয় একটু বেশি এফোর্ট না দিলে তা হয় না।

চলচ্চিত্রে আপনার অভিষেক সিনেমা ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’ দিয়ে। আর নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন অপু বিশ্বাসকে। দীর্ঘ এক যুগ পর আবার ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবিতে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করলেন। এই গ্যাপ কেন?
নিরব:
২০০৯ সালে আমার প্রথম ছবি মুক্তি পায় ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’। সেখানে আমার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন অপু বিশ্বাস। ব্যাপারটা হচ্ছে উনি আসলে শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে জুটি হয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আবার মাঝখানে গত ৩/৪ বছর তার একটা গ্যাপ ছিলো। সো গ্যাপের পর ‘ছায়াবৃক্ষ’ করলেন আমার সঙ্গে। এটা আসলে সময়ের কারণে হয়েছে।

শাকিব খান-বুবলি বর্তমান সময়ের আলোচিত ও সফল জুটি। নায়িকা বুবলি শাকিব খানের বাইরে একমাত্র আপনার সঙ্গে কাজ করেছেন। আপনার কি মনে হয় শাকিব-বুবলির মতো নিরব-বুবলিও সফল একটা জুটি গড়তে পারবে?
নিরব:
বুবলির সঙ্গে শাকিব ভাই ১০ টার মতো সিনেমা করেছেন। তাদের জায়গা থেকে তাদের ক্যামেষ্ট্রি, বুঝাপড়া, অভিনয় দক্ষতা সবকিছু মিলিয়ে এ জায়গাটা তৈরি করেছেন। আমি বুবলির সঙ্গে দুটি সিনেমার কাজ করেছি। দুটি সিনেমার একটাও রিলিজ পায়নি। সে জায়গা থেকে নিরব-বুবলির জুটি সফল হবে এটা তো অনেক পরের বিষয়।

যুগের পরিবর্তনে সিনেমা এখন অ্যাপসেও মুক্তি পাচ্ছে।এটা কিভাবে দেখচ্ছেন আপনি?
নিরব:
আমরা সারাজীবন জন্ম থেকে শুনে আসছি বা দেখে আসছি সিনেমা মানেই হলে গিয়ে দেখা। এটা আসলে অ্যাপসের সঙ্গে তুলনা করলে সিনেমা হল’কে ছোট করা হবে। মানুষ যখন সিনেমা তৈরি করেছে, প্রত্যকটা আবিষ্কারের পিছনে তাদের ধ্যান-জ্ঞান, সাধনা অনেক কিছু থাকে। একটা সিনেমা যখন তৈরি হয় একটা রিল থেকে ছবিটা প্রজেকশন করে একটা প্রজেক্টরের ছায়া ফেলে হলে মধ্যে একটা পরিবেশ তৈরি করে। যেখানে চারিদিকে অন্ধকারে বাইরের শব্দ কোনো বিরক্ত তৈরি করেনা। যেখানে প্রতিটা দর্শক মনযোগ সহকারে ছবি দেখে। এটা মোবাইলে কখনোই সম্ভব না। কেউ মোবাইলে ছবি দেখলে কখনো টানা তার মনোযোগ রাখতে পারে না। একবার ছবি দেখে তো আরেক বাইরের কথা শুনে। সিনেমা হলে সেটা হয় না।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস