‘ভিউ কিংবা সাড়া, কাজ শুরুর আগে কোনটাই মাথায় থাকে না’

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

‘ভিউ কিংবা সাড়া, কাজ শুরুর আগে কোনটাই মাথায় থাকে না’

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ২৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:০২ ৫ জুন ২০২১

রাশেদ মামুন অপু

রাশেদ মামুন অপু

প্রথম ‘সিটিবাস’ নাটক দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান এই অভিনেতা। নাটকটি প্রচার হওয়ার পর ‘মামুর বেটা নাকি’, ‘আমি তোতা মিয়া’, ‘যবের ব্যাপার’, ‘ছোট ভাইকে বাচতেই পারছেন না’সহ বেশ কিছু ডায়ালগ দর্শকদের মুখে মুখে ঘুরেছে অনেক দিন। রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষাই ছোট পর্দার অভিনেতা রাশেদ মামুন অপুর পরিচিতি বাড়িয়ে তোলে। 

এক যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন রাশেদ মামুন। অভিনয়ের ব্যস্ততার পাশাপাশি এই অভিনেতাকে নির্মাণেও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ‘জানোয়ার’ অভিনয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। এবার তিনি মুখোমুখি হয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর। আর তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়। 

‘জানোয়ার’ এর পোস্টার

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ‘জানোয়ার’ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কাজিম চরিত্রে আপনিও অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন, কেমন লাগছে আপনার?
রাশেদ মামুন অপু:
কাজের স্বীকৃতি একটা মানুষকে চলার পথে শক্তি যোগায়। প্রচুর এনার্জি শরীরে এসে ভর করে। নতুন নতুন কাজ করার ইচ্ছা জাগায়। নতুনভাবে বাঁচতে ইচ্ছে করে। এতো ভালোবাসা এবং কাজের এমন স্বীকৃতি পেয়ে নিঃসন্দেহে আমার খুব ভালো লাগছে।

এতটা সাড়া পাবেন বলে কি আশা করেছিলেন?
রাশেদ মামুন অপু:
ভিউ কিংবা সাড়া কোনোটাই কাজ শুরুর আগে মাথায় থাকে না। কাজটা ভালো করার চিন্তাটাই তখন মাথায় জেঁকে বসে। তার জন্য যে সবোর্চ্চ এফোর্ট দিতে হয়, আমি সেটাই দেয়ার চেষ্টা করি। আর ‘জানোয়ার’ এর কাজটা ছিলো সম্পূর্ণ একটা টিম ওয়ার্ক। থিয়েটারের মেকিং থেকে আরম্ভ করে সবকিছু। তাই থিয়েটারের একটা প্রভাব তো ছিলোই। সবচেয়ে পজেটিভ দিক হলো, আমার সঙ্গে যারাই ছিলেন সবাই থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড। দীর্ঘদিনের জানাশোনা ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং সবকিছু মিলিয়ে আমরা কাজটাকে ভালো করতে এফোর্ট দিয়েছি। 

প্রশংসার পাশাপাশি আপনার চরিত্রটি’কে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। এটা কিভাবে নিচ্ছেন?
রাশেদ মামুন অপু:
আমি তাই চাই। আমি চাই মানুষ এই চরিত্রটাকে ঘৃণা করুক। পৃথিবীর সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এই চরিত্রটাকে ঘৃণা করুক। আমাকেও যদি ঘৃণা করে তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার বিনিময়ে হলেও মানুষ এই চরিত্রটা ঘৃণা করুক। আমাদের আশেপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে এই চরিত্রের মানুষগুলো। এই মানুষ নামের জানোয়ারগুলোকে সবাই ঘৃণা করুক। 

আমরা এই কাজটা করেছি একটা মহান দায়িত্ব নিয়ে। যে দায়িত্বটা হচ্ছে সমাজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে। আমরা চাই এই অপরাধের প্রতিটা আসামীর ফাঁসি হোক। এই যে গণদাবী জাগরণ চেষ্টা এটার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ‘জানোয়ার’। প্রতিটার জায়গা হবে কারাগারে। আমাদের এই উদ্দেশ্যটা যে সফল হয়েছে আমি আমার জায়গা থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এখান থেকে আমরা সজাগ হবো, সচেতন হবো এদেরকে ঘৃণা করবো। এটা আমাদের ‘জানোয়ার’ মুভির মূল বক্তব্য।

এই চরিত্রটা করতে আগ্রহী হলেন কেন?
রাশেদ মামুন অপু:
আগ্রহটা তো প্রথমই ভর করেছে ডিরেক্টরের মাথায়। ডিরেক্টর এটা কাজ করেছেন। রায়হান রাফি প্রথমে স্ক্রিপ্ট নিয়ে ভেবেছেন তারপর লাইভ টেকনোলজিস অনুমোদন দিয়েছেন এরপরেই চরিত্র নিয়ে ভাবা হয়েছে। চরিত্রে আমাকে চিন্তা করা হয়েছে। রায়হান রাফির কাছে যখন এটা শুনলাম তখন আমি থমকে গেলাম। বিষয়টা বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে কি হবে। তারপর বিশদভাবে রাফি তার টেকনিক ডিজাইন বর্ণনা করলো। রাফির সঙ্গে আমার সিন দূর্দান্ত। আমরা তো একে অপরের চোখে তাকিয়ে পড়তে পারি। তার সঙ্গে আমি দহন, পরাণ, অক্সিজেন, দামাল ও জানোয়ার করলাম। ওর চিন্তাভাবনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আর জানে আমার প্রতি ওর সেই বিশ্বাসটা আছে। আমার যেমন ওর প্রতি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস আছে, তেমনি ওরও আমার প্রতি আছে। সো ও যখন আমাকে এই ক্যারেক্টারের জন্য বললো, তখন আমি দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম আমি ক্যারেক্টারটা নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম।

রাশেদ মামুন অপু

এই চরিত্রটার জন্য আপনার কি ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিলো?
রাশেদ মামুন অপু:
আমি ফিজিক্যালি ও মেন্টালি স্ট্রং ছিলাম। এটাই! আর যেহেতু আমি আইনের ছাত্র ছিলাম তাই অপরাধীদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আমার জানা আছে। এগুলো আসলে আমার অজানা কোনো বিষয় নয়। আমরা অ্যাক্টিং করি অবজারভেশন থেকে টেকনিক থেকে।

গেলো বছর আপনি ‘নবাব এলএলবি’ ছবিতেও নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, ‘জানোয়ার’ এও তাই। ধারাবাহিকভাবে নেগেটিভ চরিত্রে কেন?
রাশেদ মামুন অপু:
আমি সব ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করেছি। নেগেটিভ ক্যারেক্টরের প্রতি আমার একটু দুর্বলতা আছে। এমন চরিত্রে আমি অভিনয় করে মজা পাই। সবকিছুই তো করা হলো নেগেটিভও করে দেখা হলো।

ছোটপর্দা দিয়ে আপনার শুরু এবং আপনি বেশ ব্যস্ত একজন অভিনয়শিল্পী। এখন বড়পর্দার ব্যস্ততার জন্য কি ছোটপর্দায় আগের মতো দেখা যাবে?
রাশেদ মামুন অপু:
নিশ্চয়ই দেখা যাবে। ছোটপর্দা ছেড়ে তো কোথাও যাবো না। ওটাই আমার বাড়ি ওটাই আমার ঘর। 

টিভি, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করেছেন। এই তিনটির মধ্যে কোনটিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
রাশেদ মামুন অপু:
তিনটা মাধ্যমই আমার পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা। ফিল্ম হচ্ছে প্রত্যকটা অভিনেতা-অভিনেত্রীর সবচেয়ে আকাঙ্খার জায়গা। আমি তিনটা মাধ্যমেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যতবেশি ফিল্ম করবো ততো বেশি আমার স্বাচ্ছন্দ্য বেড়ে যাবে।

রাশেদ মামুন অপু

চেয়েছিলেন নির্মাতা হতে তারপর হয়ে গেলেন অভিনেতা। আপনার নির্মাণের ইচ্ছাটা এখনো আছে?
রাশেদ মামুন অপু:
নির্মাতাই তো হতে এসেছিলাম। কিন্তু যখন অভিনয় শুরু করেছি পাশাপাশি দুই একটা নির্মাণও করেছি। আমার এতো প্রতিভা নেই যে একসঙ্গে সবকিছু করতে পারবো। এখন যেহেতু অভিনয় করছি তাই অভিনয়ই আমার ধ্যান-জ্ঞান। আপাতত অভিনয়টাই ঠিকঠাক মতো করতে চাই।

অভিনয় নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
রাশেদ মামুন অপু:
আমি একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হতে চাই। অভিনয়ের মধ্যেই তো সব চরিত্রগুলো আসে। আমি আসলে সুদূর কোনো চিন্তাভাবনা করছি না। প্রতিটা প্রজেক্ট ধরে ধরে এগোচ্ছি। এতোবেশি চিন্তা করলে সবকিছু গুলিয়ে ফেলবো। কতদূর যাবো একমাত্র আল্লাহ বলতে পারেন। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমার চরিত্রগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য আনার।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস