আমি মানুষের চোখে দেখা গল্প বলি: অমি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১২ ১৪২৮,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪২

আমি মানুষের চোখে দেখা গল্প বলি: অমি

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৯ ১৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:০৯ ২৩ মে ২০২১

কাজল আরেফিন অমি

কাজল আরেফিন অমি

কাজল আরেফিন অমি। বাংলা নাটকের তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। খুব অল্প সময়ের মাঝেই তার অনন্য কাজ দিয়ে হয়েছেন আলোচিত এবং প্রশংসিত। তার নির্মিত এক্স বয়ফ্রেন্ড, এক্স গার্লফ্রেন্ড, ব্যাচেলর পয়েন্টসহ অসংখ্য নাটক সাড়া জাগিয়েছে দর্শকদের মাঝে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো কাজল আরেফিন অমি নির্মিত সিরিয়াল ব্যাচেলর পয়েন্ট যখন এক পর্যায়ে টিভি চ্যানেল কতৃপক্ষ বন্ধ করে দেয় তখন দর্শক তা মানতে পারে নি। হুমায়ুন আহমেদ এর বাকের ভাইয়ের পর আবার বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকেরা রাস্তায় নামে অমির ব্যাচেলর পয়েন্ট আবার শুরু করার জন্য। দর্শকেরা নিজ উদ্যোগে মানববন্ধন করে ব্যাচেলর পয়েন্টের জন্য। দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া ব্যাচেলর পয়েন্ট নতুন করে শুরু করে। 

আসছে ভালোবাসা দিবসের জন্য নাটকি নির্মানে বেশ ব্যাস্ত সময় পার করছেন তরুণ এই নির্মাতা। ব্যাস্ততার মাঝেও ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে কথা বলেন অমি। আর তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়। 

‘লতা অডিও’ নাটকের একটি অংশ

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ‘লতা অডিও’ শিরোনাম একটি নাটক আসছে আপনার, এটা নিয়ে কিছু বলুন?
কাজল আরেফিন অমি:
বেসিক্যালি আমি ট্রেন্ডি কাজ করি এবং সব সময়ই চেষ্টা করি সময়ের কাজ সময়ে করতে। এবার আমি একটু উল্টোভাবে আসছি। যেহেতু আমি ট্রেন্ডি কাজ করছি, তাই এবা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রেমের গল্প নিয়ে কাজ করবো। তবে সমসাময়িক কোনো প্রেমের গল্প নিয়ে নয়। আমার চোখে দেখা একটা ভালোবাসার গল্প নিয়ে কাজ করেছি।

আসলে ঐ সময়ে একটা মানুষকে পাওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। কিন্তু এখন একটা মানুষকে পাওয়ার জন্য খুব একটা কষ্ট করিনা। কাউকে ভালো লাগলে ম্যাসেঞ্জারে নক দেই রিপ্লাই না পেলে ব্লক দিয়ে দেই। তখনকার প্রেক্ষাপট কিন্তু এরকম ছিলো না। একটা মেয়েকে পাওয়ার জন্য একটা ছেলে দেখা যায় ৬মাস ধরে মেয়েটার দিকে চেয়ে থাকে আর অপেক্ষায় থাকে। অপেক্ষাটা হলো মেয়েটা কবে তার দিকে একটু ফিরে তাকাবে। আর ঐ চোখের চাহনিতে এক ধরনের আবেগ থাকে। ওটার মধ্যেই নিখাদ ভালোবাসা কাজ করতো, যা এই জেনারেশনে সেটা কাজ করে না। 

আমি ঠিক ঐ গল্পটাই ২০২১ এসে ২০০০ এর গল্প বলছি। ঐ গল্পে কাজ করতে আমাদেরকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমরা একটা কলোনির মধ্যে ঢুকে গিয়েছি। ঐ সময়কার সেট, চায়ের দোকান, ক্যাসেটের দোকান রাস্তা-ঘাট, পোশাক, কথা বলার ধরন সবকিছুতে অনেক প্রি-প্রোডাকশনের কাজ করতে হয়েছে। যেহেতু আমার এই গল্পটাতে ক্যাসেটের দোকান আছে তাই এখানে ঐ সময়ের ক্যাসেট দোকান সাজাতে ক্যাসেট, সিডি, গান, পোস্টার সব কিছু জোগাড় করতে হয়েছিল।

কাজল আরেফিন অমি

আমার এই নাটকে কমেডিও আছে। এখানে প্রধান দুই চরিত্রে আছেন আফরান নিশো ও মেহজাবিন। এখানে তাদের ডায়লগ কম থাকে। তাদের কথার আদান প্রদানের মাধ্যম হয় ক্যাসেটে। তারা দুজনই ক্যাসেটে রেকর্ড করে কথার আদন প্রদান করেন। নিশো ভাই চমৎকারভাবে গল্পের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। কারণ ঐ সময়ের ভালোবাসার গল্পটা উনার দেখা ও জানার ছিলো। যার জন্য উনি এই ক্যারেক্টারটা খুব ভালো মতো নিজের মধ্যে নিতে পেরেছেন।

নতুন বছরের প্রথম দিন আপনার ‘হ্যালো বেবি’ মুক্তি পেয়েছে এবং বেশ সাড়া পেয়েছে। আপনি কি এতোটা আশা করেছিলেন?
কাজল আরেফিন অমি:
বছরের প্রথম দিকে আমার একটা কাজ দর্শকদের উপহার দিয়েছি। এটা গত তিন বছর ধরে হয়ে আসছে। গতবছরও আমার ‘মরীচিকা’ বছরের প্রথম দিকে মুক্তি পেয়েছিলো এবং সেটাও বেশ ভালোই সাড়া পেয়েছিলো। এই বছর 'হ্যালো বেবি' মুক্তি পেয়েছে যেটা ছিলো একটা ফ্যামিলি কমেডি ড্রামা।

এই গল্পে আমি ফ্যামিলি ড্রামার মাঝেই বলে দিয়েছি আমার কথাগুলো। দর্শকেরা আমার সেসব কথা সহজেই রিসিভ করেছেন। অথচ, আমি যদি এই কথাটা একটু গুরুগম্ভীরভাবে বলতাম তাহলে হয়তো তারা রিসিভ করতো না। আমার কিন্তু কাজের সংখ্যা কম। কাজ করি কম, কিন্তু কাজটা মানসম্মত হয় সেটা চেষ্টা করি। 

ব্যাচেলর পয়েন্টের ধারাবাহিক সাফল্যে সিজন-৩ চলছে। এরপর কি সিজন-৪ আসবে? 
কাজল আরেফিন অমি:
ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন-৩ প্রচার শেষ হওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নিবো। সিজন-৪ কি আসবে নাকি; নাকি আরো বড় পরিসরে করবো এসব বিষয় নিয়েই। আপাতত এসব নিয়ে কোন চিন্তা করছি না আর কিছু বলতেও পারছিনা। শুক্রবার থেকে(১৫ জানুয়ারি) ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন-৩ এর নোয়াখালী পর্ব প্রচার হবে।

প্রশংসার পাশাপাশি কাজের সমালোচনাকে কিভাবে দেখেন?
কাজল আরেফিন অমি:
অবশ্যই কাজের সমালোচনা থাকবেই। আমি তো আর সবজান্তাও না আবার বেশি জানি তাও না। আমারও তো জানার কমতি আছে, মেকিংও কমতি থাকবে। আমার একটা কাজ বানানোর যে কমতি থাকবে সেটা নিয়ে অবশ্যই সমালোচনা হবেই। এটা স্বাভাবিক!

ঐ সমালোচনা থেকে যদি মনে হয় যে সমালোচনাটা হলো সেটা পজিটিভ তাহলে আমি রিসিভ করি এবং কাজের কারেকশন নিবো। আমার কাজ দেখে কোনো দর্শক যদি বলে গল্পটা ভালো হয়নি তখন আমি ভাববো এই টাইপের গল্প কেন আপনার ভালো লাগেনি। আমি তো এক ধরনের গল্পে কাজ করিনা। ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্টিক, কমেডি গল্পে কাজ করি। তাই সমালোচনা সব কাজেই থাকবে। আমি মানুষের চোখে দেখা গল্প বলি। 

কাজল আরেফিন অমি

ইংলিশ মিডিয়ামের একজন ছাত্রের কাছে আমার ‘লতা অডিও’ ভালো লাগবে না। তার কাছে এটা বোরিং লাগবে। এখন সে যদি বলে আপনার নাটকের গল্পটা ভালো লাগেনি তাহলে তো আমি ভেঙে পড়বো না। আবার ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখে অনেক মুরুব্বীরা আছেন তারা হয়তো বলেন কি নাটক! কি গল্প! একটা রুমে সব।।কিন্তু যারা এই ব্যাচেলর জীবনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন বা আছেন তাদের কাছে কিন্তু পছন্দের নাটক এটি। আর তাদের জন্যই ব্যাচেলর পয়েন্ট জনপ্রিয় হয়েছে। 

এখন আমার কাজ নিয়ে যারা যারা সমালোচনা করছে আমি তো সবারটা গ্রহণ করবো না। এমন একটা কাজ দেখান যেই কাজের কোন সমালোচনা নেই। কাজের প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা থাকবেই। কোনো একটা কথা বলে দেয়া সহজ। যেমন আমি বলে দিলাম আমি একটা খারাপ মানুষ, কিন্তু সঠিক কারণ যুক্তি থাকতে হবে; নয়তো এটা একটি ভিত্তিহীন কথাই দাঁড়াবে।

যদি তার কথায় মূখ্য হতো তাহলে ডিরেকশন সেই দিতো আমি না। তার থেকে একটু হলেও বোধ জ্ঞান আমার বেশি আছে। তাই আমি ডিরেকশন দিচ্ছি সে দেখছে। তার কথার কতোটুকু সত্যতা আছে আমার কাছে কতোটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে। এটা জাজমেন্ট করতে পারি বলেই তো আমি নিজেকে ভাঙ্গতে পারি আর সে জায়গায় ইম্প্রুভ করি। সমালোচকদের ১০০ কথার মধ্যে ২০ জনের কথায় সত্যতা আছে। সেটা নেগেটিভ বলুক। ঐ নেগেটিভ থেকে নিজের কাজগুলোর ইম্প্রুভমেন্টের চেষ্টা করি। এভাবে ভালো করে সামনে আগাতে চাই।

চলচ্চিত্রে নির্মাণ করার কোনো পরিকল্পনা আছে?
কাজল আরেফিন অমি:
আসলে চলচ্চিত্র নিয়ে অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। সামনে আরো কিছু মিটিং আছে। যদি সবকিছু মিলে যায় তাহলে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিবো। ফিল্ম আসলে কোনো কম্প্রোমাইজের জায়গা না। নট অনলি ফিল্ম হোক সেটা নাটক ফিকশন যাই বলুন। এখানে নির্মাণের জন্য প্রত্যেকটা সেকেন্ডের জন্য টাকা খরচ করতে হয়।

ভাবনার কিন্তু শেষ নেই, আপনি যা খুশি ভাবতে পারেন তার জন্য আপনার অবশ্যই টাকা খরচ করতে হবে। এখানে বাজেটের একটা বিষয় থাকে। বাজেট একটা বড় ব্যাপার। আমি এখন পর্যন্ত নাটক, ফিকশন বানিয়ে মোটামুটি একটা জায়গা তৈরি করেছি। এখন আমি যদি ফিল্ম বানাই দর্শকরা প্রত্যাশা করবে আমি কি বানালাম, কেমন হলো আমার ফিল্ম। যারা আমার জন্য ফিল্মটা দেখতে যাবেন তারা যেনো নিরাশ না হোন এবং হলে বসে বিনোদন পান। তারা সেই কনফিডেন্সটা পায় যে অমির সেকেন্ড ফিল্মটাও হলে দেখতে আসবে। ঐ জায়গা থেকে আমি ফিল্মটা বানাবো। যদি ব্যাটে-বলে মিলে যায় তাহলে আমি ফিল্মে মুভ করতে চাই। আমি আমার ফিল্মের জন্য পারফর্মার নিবো। হোক সে ছোটপর্দার কিংবা বড়পর্দার। গল্পের সঙ্গে যাকে ডিমান্ড করবে আমি তাকে নিয়েই কাজ করবো।

ছোটপর্দায় সিন্ডিকেট বলে একটা কথা শোনা যায়। এই সিন্ডিকেট নিয়ে আপনি কি বলবেন?
কাজল আরেফিন অমি:
পৃথিবীর সব জায়গায় সিন্ডিকেট আছে। ধরেন আপনি আমার নামে কয়েক জায়গায় প্রশংসা করলেন তাহলেই বিপদ। অনেকেই বলবে ওরা একটা সিন্ডিকেট। বলিউডে শাহরুখ খান, করন জোহর একসঙ্গে অনেক ফিল্মে কাজ করেছেন। রাজকুমার হিরানি, আমির খান, কলকাতায় সৃজিত, প্রসেনজিৎ একসঙ্গে কাজ করেছে। তাই ওদেরকে অনেকেই সিন্ডিকেট বলে। ধরনের নিশো ভাই, অপূর্ব ভাই, মেহজাবিন এদের সঙ্গে আমার অনেক কাজ হয়ে থাকে; তাহলে অনেকেই আমাদের সিন্ডিকেট বলে ফেলতে পারে।

কাজল আরেফিন অমি

আমার ব্যাচেলর পয়েন্ট নিয়ে পলাশ, মারজুক রাসেল এই টিমটাকেও সিন্ডিকেট বলতে পারে। এখানে আমার পারফর্মার দরকার যার সঙ্গে যার কাজ ভালো হবে ঐভাবে একটা টিম হবে। আর সেটাকে অনেকে সিন্ডিকেট বলে আখ্যা দিবে। এখানে আমরা কাজ করি কোনো ক্রাইম করিনা। এখানে একটা পারফর্মার যদি ভালো কাজ না করতো তাহলে তো আমি ব্যাক টু ব্যাক তাকে নিয়ে কাজ করতাম না। আমিও ঠিকঠাক মতো কাজটা না করলে পারফর্মারও তো আমার সঙ্গে কাজ করতো না। একটা আর্টিস্ট যদি মনে করে তাকে ডেট দিলে ভালো কাজ হবে, একটা ডিরেক্টরও ঐ আর্টিস্টের ডেট দিবেই। আর কেউ বলছে না ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটা। আমাদের আশেপাশের কলিগরাই আবিষ্কার করেছেন। জুটি প্রথা ডিরেক্টর আর্টিস্ট কাজে একটা ডিমান্ড থাকবেই। তাদের কলিগরাই যদি তাদেরকে সিন্ডিকেট বলে তাহলে আর কিছু করার থাকে!

ডেইলি বাংলাদেশকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
কাজল আরেফিন অমি:
ডেইলি বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস/জেএইচএফ