অভিনয়ের ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড লোভী: অর্চিতা স্পর্শিয়া

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

অভিনয়ের ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড লোভী: অর্চিতা স্পর্শিয়া

রুম্মান রায় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৩ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:০৮ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ছবি: সংগৃহীত

অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ছবি: সংগৃহীত

অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া বিরচরণ সব অঙ্গনেই। একটা সময় শুধু টিভি নাটক, টেলিছবি কিংবা বিজ্ঞাপন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বেশ কয়েকটি গল্পনির্ভর সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘আবার বসন্ত’, ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ ও ‘আবার বসন্ত’র পর আবারো নতুন সিনেমা নিয়ে হাজির স্পর্শিয়া।

বিজয় দিবসে ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে অনন্যতুলে  মামুন পরিচালিত ‘নবাব এলএলবি’। যেখানে অর্চিতা স্পর্শিয়ার সহশিল্পী হিসেবে আছেন ঢালিউডের সুপারস্টার শাকিব খান, মাহিয়া মাহি, শহীদুজ্জামান সেলিমসহ আরো অনেকে। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এ সিনেমাসহ অন্যান্য ব্যস্ততা নিয়ে সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে কথা বললেন স্পর্শিয়া।

আপনার নতুন ছবি ‘নবাব এলএলবি’ কাল মুক্তি পাচ্ছে। আপনার অনুভূতি কি?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: অনুভূতি ভালো এবং খারাপ দুই রকমের (হাসতে হাসতে জানালেন)। বিজয় দিবসে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে, এটা একটা অনেক বড় ব্যাপার। সিনেমাটি খুবই সেনসিটিভ ইস্যু নিয়ে বানানো। অন্যদিনে মুক্তি পেলেও খুশি হতাম। তবে বিশেষ দিনে মুক্তি পাওয়ায় একটু বেশি খুশি লাগছে।

ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে ‘নবাব এলএলবি’। ছবি: সংগৃহীত

খারাপ লাগার কারণ হচ্ছে, অ্যাপসে মুক্তি পাচ্ছে। করোনাকালে ঘরে বসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখার অভ্যাস হয়ে গেছে। তবুও দিনশেষে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার মজাই আলাদা। আমি চাই সবাই সিনেমাটা দেখুক।

সহশিল্পী হিসেবে শাকিব খান-মাহিদের আপনার প্রথম কাজ। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: তারা দুজনই দেশের ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির বড় তারকা। তাদের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, অভিজ্ঞতা চমৎকার। বিশেষ করে শাকিব ভাই খুব চমৎকার মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করে আমার খুব ভালো লেগেছে। আর মাহির সঙ্গে ইউনিটে সারাক্ষণ অনেক মজা করেছি। অনেকে বলেছে দুই নায়িকা মানেই একটু প্রবলেম হয়। কিন্তু বাস্তবে আমার মাহির মধ্যে সেরকম কিছুই হয়নি। মাহি ও আমার মধ্যেও সেটা কাজ করেনি।

ফিল্ম ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন বড় বাজেটের সিনেমায় কাজ করাটা আপনার জন্য লাকি ছিল নাকি পরীক্ষা?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: এটা আমি পরীক্ষা মনে করি না। আমি আমার পরিচালকের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। উনি আমাকে এ চরিত্রের জন্য নির্বাচন করেছেন। আমার উপর বিশ্বাস ভরসা রেখেছেন। এজন্য আমি নিজেকে অনেক লাকি মনে করি।

এমন চরিত্রে অভিনয় করে নাচ, গান রোমান্টিক দৃশ্য মিস করছেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: আমার এ চরিত্রে এগুলোর কোনো কিছুই পাবেন না। একদম ডার্কসার্কেল, চুল না আচঁড়ানো, ঠোঁটকাটা—এমন একটি মেয়ের ভূমিকায় আমাকে দেখা যাবে। এখানে গ্ল্যামারের গ-ও নেই। আমার কাছে গ্ল্যামার মানে ওই চরিত্র, যেটা বাস্তবতার সঙ্গে ফুটে ওঠে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত সেটা আমার কাছে গ্ল্যামার মনে হয় না।

হলে গিয়ে সিনেমা দেখার মজাই আলাদা, বললেন স্পর্শিয়া। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরের ক্যারিয়ারে আপনার সিনেমার সংখ্যা কি বাড়াচ্ছেন না, নাকি বাড়ছে না?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: বাড়ছে না এরকম নয়। গত বছরই আমার প্রথম ছবি মুক্তি পেয়েছে। এই দুই বছরে ‘নবাব এলএলবি’সহ চারটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে একজন নতুন হিসেবে আমি মনে করি এটা অনেক।  নতুন হিসেবে ভালো করছি। পেনডামিক না হলে আমার ছবির সংখ্যা আরো বাড়তো।

একসময় ছোটপর্দায় কাজ করেছেন,সে জায়গাটা কি মিস করেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: না; একদমই করি না। নাটক ইন্ড্রাস্ট্রির সিস্টেমটা যেভাবে কাজ হয় আমি খুব বিরক্ত। আর এসবকিছুর উপর বিরক্ত হয়েই নাটক ছেড়েছি। সিনেমা করবো বলে কিন্তু আমি নাটক ছাড়িনি। সিনেমায় আসার আগেই নাটককে বিদায় জানিয়েছি। বড়পর্দায় যখন আমি ভালো সাড়া পাচ্ছি, তখন এটা নিয়েই থাকতে চাই।

ভবিষ্যতে ছোটপর্দায় কাজ করার ইচ্ছে আছে?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: আপাতত এখন আর নেই।

ছোটপর্দা থেকে কাজের প্রস্তাব আসে?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: না (হেসে)। সবাই জানেন আমি সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত আছি।

কোন চরিত্রে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: যেকোনো নতুন চরিত্রে। যেটা আমি আগে কখনো করিনি। অভিনয়ের ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড লোভী। আমি পৃথিবীর সব ভালো চরিত্রগুলোতে অভিনয় করতে চাই। আসলে আমি অভিনয়টাকে উপভোগ করি। যদি অন্য কিছুতে উপভোগ করতাম তাহলে সেটাই করতাম।

ঘুরতে ভালোবাসেন অর্চিতা স্পর্শিয়া। ছবি: সংগৃহীত

শেষ প্রশ্ন; সবাই কেন ‘নবাব এলএলবি’ দেখতে আগ্রহী হবে?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: কেন আগ্রহী হবে এটা বলতে পারবো না। একেক কারণে একেকটি আগ্রহ তৈরি হয়। তবে আমি এটা বলতে পারি সিনেমা দেখার পর সবার ভালো লাগবে। এই সিনামার নেপথ্যে অন্যতম বড় একটি উদ্দেশ্য হলো, সমাজের ১০০জনের মধ্যে অন্তত দশ জন মানুষের মানসিকতার যেন পরিবর্তন হয়। এটাই আমাদের সার্থকতা। আমি চাই সবাই সিনেমাটা দেখুন।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নবাব এলএলবি’র জন্য শুভ কামনা।

অর্চিতা স্পর্শিয়া: সবাইকে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে