প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ-দূরদর্শী নেতৃত্বে দল ও সরকার সফল

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ-দূরদর্শী নেতৃত্বে দল ও সরকার সফল

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৩ ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৭ ২৮ অক্টোবর ২০২০

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন- ছবি:ডেইলি বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন- ছবি:ডেইলি বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ-দূরদর্শী নেতৃত্বে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। শুধু এ মহামারিই নয়, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাসহ সব ক্ষেত্রে দল ও সরকার দুটোই সফল হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন দলটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। এসময় তিনি দেশের পরিবেশ ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশ এর স্টাফ রিপোর্টার জাফর আহমেদ। 

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংকট মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ কতটা সফল?

দেলোয়ার হোসেন: করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব আজ সংকটে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংকট রয়েছে। সরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেয়ায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তখন শেখ হাসিনার দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু এই সংকটে নয়, সব সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সরকার দুটোই সফল হয়েছে।

মহামারি করোনার সময় দলীয় কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হয়েছে?

দেলোয়ার হোসেন: দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। করোনাকালে সেটা আবারো প্রমাণ হয়েছে। মহামারিতে মাইকিং, খাদ্যসামগ্রী, লিফলেট, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের বাড়ি বাড়ি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় দলের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ হয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা করেনি।

ত্যাগী বা বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ব্যাপারে আপনার মত কী?

দেলোয়ার হোসেন: ৭৫-সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধীরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম, দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। সেই সব আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যারা দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের হাতে নানামুখী নির্যাতনের মুখেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিল তাদের রাজনীতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে। আওয়ামী লীগে কোথাও বিতর্কিতদের স্থান দেয়া হবে না। 

অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে ত্যাগী নেতাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি-না?

দেলোয়ার হোসেন: আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এ দলের নেতাকর্মীর সংখ্যাও বেশি। একটি পদে একাধিক যোগ্য প্রার্থী পদপ্রত্যাশী থাকে। তার মধ্যে থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব তুলে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। বিষয়টি কঠিন হলেও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেই দলের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। 

অনুপ্রবেশকারীরা যাদের হাত ধরে দলে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না?

দেলোয়ার হোসেন: বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগ দুর্নীতি বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ও অনুপ্রবেশকারীদের ছাড় দেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের দলের অভ্যন্তরে অনেক অনুপ্রেবেশকারী আছে। আওয়ামী লীগে নেতার হাত ধরে অনুপ্রবেশ করেই বাগিয়ে নিয়েছে দলের পদ-পদবি। বিভিন্ন সময় বিতর্কমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দল ও সরকারের সুনাম নষ্ট করছে অনু্প্রবেশকারীরা। নিজ দলের অভ্যন্তরে বলয়ভিত্তিক রাজনীতি তৈরি হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

বিতর্কিত ব্যক্তিদের যারা দলে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের কোথাও তাদের স্থান হবে না। একইসঙ্গে বিতর্কিত, হাইব্রিড, অনুপ্রেবেশকারী ও ভিন্নপন্থীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা নেতাকর্মীদের দলীয় শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। পরে তাদের দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।

নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে দলীয় ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়, এটা দলীয় তদারকির দুর্বলতা কি-না?

দেলোয়ার হোসেন: সংগঠনের কেউ শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সংগঠনের নিয়মানুসারে কোনো তূণমূলের নেতাকর্মী শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তাকে শাস্তি দেয়ার অধিকার কেন্দ্রীয় কমিটির। এতে কেউ মনে করতে পারেন, এটা সময়ক্ষেপণের সুযোগ। কিন্তু বিষয়টি তা-না। এটা পরিষ্কার, কোনো অন্যায়কারীকে আওয়ামী লীগ ছাড় দেয় না।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি কী কাজ করেছে?

দেলোয়ার হোসেন: মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিবছর সারাদেশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ বছর বৃক্ষরোপণ প্রোগ্রামটি আরো বড় পরিসরে করা হয়েছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে কর্মসূচি কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ করেছেন আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিরিজ প্রোগ্রামের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ছিলো অন্যতম। আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা আমাদের উপ-কমিটি এবং সহযোগী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করি।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ছিল যে, এক কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। কিন্তু সবার প্রচেষ্টায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করতে সক্ষম হয়েছি। এসব বৃক্ষ যখন বড় হলে আওয়ামী লীগ সুফল ভোগ করবে না। দেশের মানুষই ভোগ করবে। আওয়ামী লীগ যা করে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য করে। শুধু বৃক্ষরোপণ নয় আমরা ত্রাণ বিতরণও করেছি। এতে সবচেয়ে বেশি স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবাইকে পাওয়া যায়নি। তবুও গাছের চারা বিতরণ করেছি। এমনকি গ্রিন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট নামের একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ১৫ লাখ চারা বিতরণ করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ