‘দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে কক্সবাজার’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

‘দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে কক্সবাজার’

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:০১ ২৩ অক্টোবর ২০২০

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমদ। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমদ। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

২০১৬ সালের ১১ আগস্ট কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমদ। দুই বছর মেয়াদ শেষে তাকে আবারো একই পদে নিয়োগ দেয়া হয়। সর্বশেষ তৃতীয়বারের মতো চলতি বছরের ১২ আগস্ট তাকে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

সম্প্রতি ‘কউক’ চেয়ারম্যান মুখোমুখি হয়েছিলেন ‘ডেইলি বাংলাদেশ’ এর। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা তুলে ধরেন কক্সবাজারের একাধিক প্রকল্পের উন্নয়নের কথা। তার বক্তব্যে উঠে আসে কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে হাতে নেয়া প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন ও কক্সবাজার কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে লালদীঘি, গোলদিঘি, বাজার কাঁটা পুকুর সংস্কার, আলোকসজ্জা ও  সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প।

এছাড়াও চলছে ১০ তলা কউক এর অফিস ভবন নির্মাণ, স্টার ফিস ভাস্কর্য নির্মাণ, রূপচাঁদা ভাস্কর্য নির্মাণ, সাম্পান ভাস্কর্য নির্মাণ, উন্নয়নের অবিচল ভাস্কর্য নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর বা ঝিনুক ভাস্কর্য নির্মাণ, শহরজুড়ে আলোকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, কলাতলীতে ফ্ল্যাট প্রজেক্ট প্রকল্প ও শহরের হলিডে মোড় থেকে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল পর্যন্ত  ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে বাঁকখালী নদীর তীরে বঙ্গবন্ধু থিম পার্ক এবং শহরের নিকটবর্তী শেখ হাসিনা স্মার্ট সিটি নির্মাণ প্রকল্প।

কউক চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর আওতাধীন সব পর্যটন স্পট ঢেলে সাজানোর কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এখন যেভাবে অগ্রসর হচ্ছি তাতে আমি আশা করি যে,  এই পর্যটন শহরকে আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে পারব। তিনি বলেন সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সমন্বয়ের মাধ্যমে কোথায় অ্যাকুরিয়াম হবে, কোথায় শিশু পার্ক হবে, খেলার মাঠ কোথায় হবে, এসব বিষয় নিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা জোন তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের ২৪০ জন পরিকল্পনাবিদ, আর্কিটেক ও ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে। আরো ৬৩ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার ছাড়পত্র পেয়েছি। জনবল সংকটের কারণে উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১০ তলা ভবন তৈরি হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ আমরা ওই ভবনে উঠার আশা করছি। 

তিনি আরো বলেন, আমরা সবকিছু সিঙ্গাপুরের আদলে করার চিন্তা করছি। বিভিন্ন প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এসব প্ল্যান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর দ্রুত কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে আমার আওতাধীন কুতুবদিয়া, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, মহেশখালী, সোনাদিয়া, রামু বৌদ্ধ মন্দির, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও দুলাহাজারা সাফারি পার্কসহ পর্যটন শিল্প বিকাশে প্রচুর খাত রয়েছে। আমি মনে করি, এ খাতগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করা হলে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে কক্সবাজার। যদিও পর্যটন শিল্প বিকাশে পর্যটন মন্ত্রণালয়, পর্যটন কর্পোরেশন এবং ট্যুরিজম বোর্ড রয়েছে। এরপরও সবার সমন্বয়ে পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কক্সবাজার হবে সত্যিকার অর্থে পর্যটন শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু।

সবশেষে ‘কউক’ চেয়ারম্যান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওয়াদাবদ্ধ যে সততা, নিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। কক্সবাজারকে আধুনিক পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন শিল্পকে ডিজিটাল মানে সমৃদ্ধ করাই আমার লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারকে অপরূপ সাজে সাজাতে পারলেই আমার স্বপ্ন এবং প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এসআর/এআর/এইচএন/টিআরএইচ