‘মজাটা হলো, আমার নাম কাজী সালাহউদ্দিন’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘মজাটা হলো, আমার নাম কাজী সালাহউদ্দিন’

এস আই রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৬ ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:০২ ১২ অক্টোবর ২০২০

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন     -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আমি তিনটা বাফুফে নির্বাচন করেছি, তিনটা সাফের নির্বাচন করেছি, এবার আবারো বাফুফে নির্বাচন করছি। আমার কাছে প্রতিটা ইলেকশনই চ্যালেঞ্জিং। তাই একটা অন্যটার থেকে সহজ ছিল না’- এভাবেই ডেইলি বাংলাদেশকে বলছিলেন দেশসেরা সাবেক ফুটবলার কাজী সালাহউদ্দিন।

২০১৬ সালে তৃতীয় মেয়াদে বাফুফের সভাপতি হন তিনি। চতুর্থবারের মত আবারো সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন দেশসেরা সাবেক এ ফুটবলার। ফের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তার দেয়া ৩৬ দফা ইশতেহার পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। 

নির্বাচন ও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন কাজী সালাহউদ্দিন। 

সভাপতি হিসেবে আপনার প্রধান লক্ষ্য কি?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমি ফুটবলের মানুষ। ফুটবলই আমার ধ্যান-জ্ঞান। বাংলাদেশ দলের র‍্যাংকিং ১৫০ এর মধ্যে নিয়েই আশাই আপাতত প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া লিগগুলো নিয়মিত চালু রাখা।

সভাপতি নির্বাচিত হলে বাফুফে নিয়ে কী পরিকল্পনা আপনার?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমি পুরো প্যানেলে নির্বাচিত হলে কাজ করা আরো সহজ হবে। তবে যারা জিতুক না কেন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করবো। হয়তো মতের মিল-অমিল হবে তবে যা করবো ফুটবলের ভালোর জন্যই করবো। আমি ম্যাজিশিয়ান নই। সবার চেষ্টা দরকার। একসঙ্গে কাজ করলে সফল হবো আশা করি।

ভোটাররা আপনাকে ভোট দেবে বলে মনে করেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: ভোটাররা ভোট দেবে। কারণ, আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যা করছি সব ফুটবলের জন্যই।  তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তারা যেকোনো বিষয়েই আমাকে পাশে পায়।

আপনার বিরুদ্ধে যে সমালোচনা হচ্ছে এটিকে কীভাবে দেখছেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমার বিরুদ্ধে এসব পেশাদার প্রচারণা। চার বছর ধরেই এসব চলছে। কয়দিন? দুই দিন করেই শেষ। আমার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার তো চলছেই। আপনি আমাকে হারাতে চান? নির্বাচনে আসুন।

কাজী সালাউদ্দিনএই প্রচারণা নিয়ে আপনার কী মতামত?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমাকে সরানোর উদ্দেশ্যেই এই প্রচারণা। এক জায়গায় হ্যাশট্যাগে আমার বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মন্তব্য এসেছে। এসব মন্তব্যে বলা হয়েছে, কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সরাও। মজাটা হলো, আমার নাম কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ নয়, কাজী সালাহউদ্দিন। একটা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে এসব ছড়ানো হচ্ছে, তা বোঝা যায়।

আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কিভাবে দেখছেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: প্রতিদ্বন্দ্বী সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বী। সে ছোট হোক বা বড়। নির্বাচনটা যেহেতু চ্যালেঞ্জিং। তাই আমি কাউকে হালকাভাবে নিচ্ছি না।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বা চাপে বাদল রায় ও তরফদার রুহুল আমিনকে সরিয়ে দিয়েছেন এমন কথা অনেকেই বলছে, আপনি কি বলেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমি কেন সরাতে যাব? কেন সব বিষয় আমার ওপর চাপানো হচ্ছে! আমার তো এই নির্বাচনে আরো দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। দেখুন, রুহুল আমিন সাহেবটা কে? সে কেন সরে গেছে তা সে বলতে পারবো আমি না। এসব বাজে প্রচারণা। গতবারও ছিল, এবারও আছে।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা আপনাকে নিয়ে নানান মন্তব্য করছেন, আপনার কিছু বলার আছে?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্মান করি। তাদের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। অনেকেই আমাকে গালাগাল করছে, কিন্তু আমি গালাগাল দিতে জানি না। আমি ওই সমাজ থেকে আসিনি।

কথা বলছেন বাফুফে প্রেসিডেন্টআপনার সভাপতি থাকার ১২ বছরে ফুটবলকে কি দিতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমি বাফুফের সভাপতি হওয়ার আগে ফুটবলাররা ৩ লাখ টাকা পেত ক্লাব থেকে (২০০৮ সালে ১৫-২০ লাখ পেত), এখন পায় ৫০-৬০ লাখ টাকা। আগে লিগ ম্যাচ হতো শুধু ঢাকায়। এখন ৫-৬টা জায়গায় হয়। ফুটবলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এসেছে। আমার সময়ে জাতীয় দলের জয়ের হার ৫ ভাগ বেড়েছে। আমি ১২ বছরে ১২টা লিগ দিয়েছি (পেশাদার লিগ ২০০৭ সালে শুরু হয়ে ১১টি হয়েছে)। পাইওনিয়ারসহ অন্য লিগ হয়েছে। ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আমরা জেলাকে টাকা দিয়েছি।

আপনি বড় তারকা। তারপরও আপনাকে নিয়ে এতো সমালোচনা কেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: হয়তো আমার চেহারা খারাপ, নয় আমি বিশেষ কেউ, যে কিছু করতে পারে। আমি ফুটবলকে মাঠে টিকিয়ে রেখেছি হয়তো তাই এতো সমালোচনা।

ফুটবল উন্নয়নে আপনার ভূমিকা তেমন দেখা যায় না এ অভিযোগের কী জবাব দেবেন?

কাজী সালাহউদ্দিন: আসলে ফুটবল উন্নয়ন ফেডারেশন করে না। কাজটা ক্লাব, জেলার। ফুটবল ফেডারেশনের কাজ হলো টুর্নামেন্ট করা, জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ, দলের জন্য হোটেল, ভেন্যু ইত্যাদি ঠিক করা।

আপনার দেয়া ইশতেহারটি চার বছরে পূরণ করা সম্ভব?

কাজী সালাহউদ্দিন: এবারের ইশতেহারটি আমি নিজেই করেছি। আমি এতদিন বুঝেছি। এবার সব ভেবেই ইশতেহার দিয়েছি। যার ৮০ ভাগই কার্যকর হবে। তবে তা নির্ভর করছে ভোটারদের ওপর। একা আসলে কিছু সম্ভব হবে না। পুরো প্যানেলসহ আসলেই সম্ভব।

ফুটবলপ্রেমীদের কিছু বলার আছে আপনার?

কাজী সালাহউদ্দিন: আমার ওপর আস্থা রাখুন। ফুটবলের জৌলুস আমি ফিরিয়ে দেবো। ফুটবলের উন্নতি হচ্ছে, সামনে আরো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এএল