মামলার আইনগত দিক যাচাই-বাছাই করেই পরামর্শ দেই

ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৬ ১৪২৭,   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মামলার আইনগত দিক যাচাই-বাছাই করেই পরামর্শ দেই

আইন-আদালত প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৮ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মামলার শুনানিতে ক্ষুরধার যুক্তি উপস্থাপন করে ১২ বছর ধরে ওকালতি পেশায় আছেন অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। কথা-কাজে মিল ও মামলার গ্রাউন্ড যাচাই-বাছাই করে সঠিক পরামর্শও দিয়ে থাকেন তিনি। 

নাগরিকদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের কথা বিবেচনা করে জনস্বার্থে অনেকগুলো মামলাও করেছেন তিনি। আদালত থেকে প্রত্যাশিত আদেশও পেয়েছেন। বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করলেই ওকালতিতে ভালো করা যাবে, তুলনামূলক কম ডিগ্রি দিয়ে এখানে সুবিধা করা যাবে না এমন বিশ্বাস উল্টে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এই উদীয়মান আইনজীবী। কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে তিনি আইনে স্নাতক ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করেন তিনি।

জনস্বার্থে মামলাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আইন-আদালত বিষয়ক প্রতিবেদক আহমেদ তানভীর।

ডেইলি বাংলাদেশ: ওকালতি করার অনুপ্রেরণা পেলেন কীভাবে?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া: সমাজের অন্য দশটি পেশার চেয়ে আইন পেশা মর্যাদাপূর্ণ। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এ পেশায় কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক ও মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে এ পেশার মানুষেরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন। কেউ মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তার পাশে বিনা ফিতে আইনি সেবা দেয়ার সুযোগ আছে, যেটি অন্য পেশার মানুষদের ক্ষেত্রে কম। সেবামূলক এ পেশা আমার কাছে খুবই আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বলে মনে হয়। এমন চিন্তা থেকেই আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ মহান পেশায় এসেছি। এখানে থেকে সারাজীবনই মানুষের সেবা দিতে চাই।  

আইনজীবীদের নেতা নির্বাচিত হলে তাদের কল্যাণে আপনি কি ধরনের কাজ করতে চান?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া: আমি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ২০২০-২১ সেশনের টাউট উচ্ছেদ কমিটির সাব কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এই কমিটিতে ১০জন আইনজীবী কাজ করছেন। এছাড়া আইন অঙ্গনে দালাল ও দুর্নীতি নির্মূল কমিটি নামে আমার একটি সংগঠন রয়েছে। আমি সেই সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের নেতা নির্বাচিত হলে- আইনজীবীদের সম্মান বাড়ানো, সমাজে তাদের নেতৃত্বে দিক, তাদের দ্বারা মানুষ উপকৃত হোক এমন কিছু যেন করা যায় সেই চিন্তা করি।

ব্যক্তিগত মামলার পাশাপাশি আপনি জনস্বার্থে অনেক মামলা করে থাকেন। কোনো উদ্দেশ্যে, জনস্বার্থ বলতে যা দরকার সেগুলো আপনার মামলায় থাকে কিনা?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া: দেখুন, আইনজীবী হিসেবে যখন শপথ নিয়েছি তখনই জনস্বার্থে কিছু করার প্রতিজ্ঞা করেছি। আইনজীবীদের মাদার সংগঠন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাক্টেও এমন বিষয়ে বলা আছে। আমি শুধু একজন আইনজীবীই নই একজন নাগরিকও বটে। সে জায়গা থেকে সমাজের প্রতি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তার অংশ হিসেবে জনস্বার্থে মামলা করে থাকি। কেননা জনস্বার্থের মামলায় অনেকেই লাভবান হন যা নিঃসন্দেহে অনেক বড় সফলতা।

এ পর্যন্ত পাবলিক ইন্টারেস্ট বা জনস্বার্থে কতগুলো মামলা করেছেন?

ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া: সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় অথবা সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে উচ্চ আদালতে এ পর্যন্ত অনেকগুলো পাবলিক ইন্টারেস্ট মামলা করেছি। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সারাদেশের আদালতগুলোতে ই-জুডিশিয়ারি চালুর নির্দেশনা চেয়ে রিট, আইনাঙ্গনে ভুয়া আইনজীবী- দালাল নির্মূল চেয়ে রিট, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডিএজি, এএজি নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছি। এছাড়া দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর (পরামর্শক) ও কিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ) নিয়োগের নির্দেশনা চেয়েও রিট করেছি। রিটের শুনানি করে আদালত রুল জারি করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ