২০ রুপি ফেরত পেতে যৌবন শেষ করলেন চতুর্বেদী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

২০ রুপি ফেরত পেতে যৌবন শেষ করলেন চতুর্বেদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩৩ ১২ আগস্ট ২০২২  

আইনজীবী তুংনাথ চতুর্বেদী- ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী তুংনাথ চতুর্বেদী- ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৯ সালে উত্তর প্রদেশের মথুরা ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশন থেকে দুটি টিকিট কেনার সময় ২০ রুপি বাড়তি নেয়ার অভিযোগে মামলা করেন আইনজীবী তুংনাথ চতুর্বেদী। সে মামলার আইনি লড়াই শেষে গত সপ্তাহে রায় ঘোষণা করে ভারতের একটি ভোক্তা আদালত।

আদালত বাদী পক্ষে রায় দিয়েছে এবং রেলওয়েকে সুদসহ অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে।

৬৬ বছর বয়সী চতুর্বেদী বলেন, মামলা সংশ্লিষ্ট শতাধিক শুনানিতে আমি হাজির হয়েছি। কিন্তু মামলায় আমার যে সময় ও শ্রম ব্যয় হয়েছে সেটির কোনো মূল্য হবে না।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা চতুর্বেদী মথুরা থেকে মোরাদাবাদ যাচ্ছিলেন। টিকিট বুকিংয়ের তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়। প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ৩৫ রুপি। তিনি ১০০ রুপির নোট দিলে কাউন্টার থেকে ১০ রুপি ফেরত দেওয়া হয়। এর ফলে ৭০ রুপির বদলে ৯০ রুপি পড়ে তার টিকিট দুটির দাম।

টিকিট ক্লার্ককে তিনি অতিরিক্ত অর্থ কাটার কথা বললেও চতুবের্দী কোনো অর্থ ফেরত পাননি। যার ফলে তিনি নর্থ ইস্ট রেলওয়ে (গোর্খাপুর) ও বুকিং ক্লার্কের বিরুদ্ধে মথুরার একটি ভোক্তা আদালতে মামলা করেন।

চতুর্বেদী জানান, ভারতের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য রায় পেতে এত বছর লেগেছে।  তিনি বলেন, রেলওয়ে মামলাটি গায়েব করার চেষ্টা করছিল। তারা দাবি করেছিল, রেলওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভোক্তা আদালত নয়, রেলওয়ের ট্রাইব্যুনালে মীমাংসা হওয়া উচিত।

রেলওয়ের দাবি, ভারতে রেল ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ মীমাংসার জন্য আধা-বিচারিক এ ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হয়েছে।

চতুর্বেদী বলেন, কিন্তু আমরা ২০২১ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রুলিং কাজে লাগিয়েছি। যাতে বলা হয়েছে, অভিযোগটি ভোক্তা আদালতে শুনানি হতে পারে।

তিনি আরো জানান, বিচারকরা ছুটিতে থাকার কারণেও বিভিন্ন সময় শুনানি বিলম্বিত হয়েছে।

দীর্ঘ এ আইনি লড়াই শেষে বিচারকরা রেলওয়েকে ১৫ হাজার রুপি জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২০ রুপির জন্য প্রতি বছর ১২ শতাংশ সুদসহ ফেরত দিতে হবে। যদি ৩০ দিনের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করা না হয় তাহলে সুদের হার বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ শতাংশ।

চতুর্বেদীর দাবি, তিনি যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তা তুচ্ছ। তিনি যে মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তা পূরণ হয়নি। এমনকি তার পরিবারও মামলাটি চালানো থেকে তাকে বাধা দিয়েছেন। তারা এটিকে সময়ের অপচয় বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু তিনি ছিলেন অটল।

চুতর্বেদী বলেন, বিষয়টি অর্থের নয়। এটি ছিল ন্যায় বিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। তাই এটি ছিল যথার্থ। এছাড়া আমি নিজেই যেহেতু আইনজীবী ফলে মামলার পরিচালনা ও যাতায়াতের জন্য আমার অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। তা না হলে অনেক ব্যয় হতো।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »