‘রুশ সেনারা স্বামীকে গুলি করে আমাকে ধর্ষণ করেছে’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২,   ২০ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

‘রুশ সেনারা স্বামীকে গুলি করে আমাকে ধর্ষণ করেছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৪ ১২ এপ্রিল ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ চারপাশ থেকে চলে গেছে, তবে রেখে গেছে অনেক ক্ষত ও বেদনার গল্প। ভোগান্তির শিকার অনেকেই ভুগছেন মানসিক যন্ত্রণায়। সংবাদমাধ্যম বিবিসি তেমন এক নারীর গল্প শুনেছে। যিনি দাবি করেছেন, তিনি নিজে রাশিয়ার সেনাদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তার স্বামীকে রুশ সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। 

আন্না (ছদ্মনাম) নামের ওই নারী কিয়েভ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের এক নিভৃত পল্লীতে স্বামী, সংসার নিয়ে ভালোভাবেই বসবাস করছিলেন। তবে রুশ আগ্রাসনের পর তার জীবনটাই ওলট-পালট হয়ে গেছে। এক দল রুশ সেনা এসে হঠাৎ করেই তার বাড়িতে হাজির।

তিনি বলেন, প্রথমেই তারা আমার স্বামীকে হাত তুলে পেছনে হটতে বলেন। এরপর আমাকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায় পাশের একটি নির্জন বাড়িতে।

সেখানে তারা বন্দুক তাক করে আমার সব পোশাক খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপর তরুণ এক সেনা আমাকে ধর্ষণ করে। আমি ভেবেছিলাম, এখানেই বুঝি আমার দুর্ভোগ শেষ। কিন্তু না, এরপর একে একে আরো চার সেনা আমাকে ধর্ষণ করে।

জ্ঞান ফিরে এলে আমি বাড়ি গিয়ে দেখি আমার গুলিবিদ্ধ স্বামী কাতরাচ্ছেন। আমাকে তুলে আনার সময় তিনি রুশ সেনাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর একাধিক গুলি চালানো হয়।

আরো পড়ুন: রাশিয়ার তেলের বিকল্প নেই, ইইউকে সতর্ক করল ওপেক

আন্না আরো বলেন, এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য স্বামী নিয়ে হাসপাতালেও যেতে পারিনি আমি। আশপাশের বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চেয়েছি তাদের কাছে স্বামীর চিকিৎনার জন্য। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কেউ-ই আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহস পাননি। আমার সামনেই যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে দুদিন পর স্বামী মারা গেলেন।

বাড়ির পেছনে উঠানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। গত ৭ মার্চ ওই নারীর বাড়িতে এ বর্বরতা চালায় রুশ বাহিনী। আন্না যতক্ষণ সাংবাদিকদের কাছে তার এ করুণ কাহিনি বলছিলেন, ততক্ষণই কাঁদছিলেন।  

তিনি আরো জানান, তার শরীরিক অসুস্থতা কেটে গেলেও মানসিক ট্রমায় ভুগছেন তিনি। স্থানীয় হাসপাতালে তিনি নিয়মিত মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ

English HighlightsREAD MORE »