বেলি নাচে চাকরি গেল শিক্ষিকার, ভাঙল সংসারও

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বেলি নাচে চাকরি গেল শিক্ষিকার, ভাঙল সংসারও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০২ ১২ জানুয়ারি ২০২২  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মিসরে এক নারী শিক্ষকের বেলি নাচের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে কর্মস্থল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসারও ভেঙে গেছে তার। এই ঘটনায় দেশটিতে নারীদের অধিকার ও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নীল নদের ওপর নৌকায় অফিসের একটি অনুষ্ঠানে আয়া ইউসুফ নামের ঐ শিক্ষিকার নাচের ভিডিও করেছিলেন তারই এক সহকর্মী। ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায় মিউজিকের তালে তালে তিনি নাচছেন।

প্রাচীন মিশরের শাসক ফারাওদের সময় থেকেই বেলি নাচ চলে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে জনসম্মুখে নারীদের এ নাচের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। দিনের আলোয় করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, ফুলহাতা জামা পরা আয়া ইউসুফের মাথায় স্কার্ফও রয়েছে। পশ্চিমা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি ঢাকা ছিল তার পোশাক।

তবে গত কয়েক সপ্তাহে আরব বিশ্বের সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিওটি ব্যাপক আকারে শেয়ার হয়েছে আর বিষয়টি নিয়ে রক্ষণশীল মিসরীয়দের মধ্যে একটা ক্ষোভও রয়েছে।

এ ঘটনার সমালোচকরা বলছেন, আয়া ইউসুফ নির্লজ্জের মতো কাজ করেছেন। টুইটারে একজন লিখেছেন, আমরা কি বাজে সময়ে বাস করছি এই ভিডিও থেকে তা পরিষ্কার বোঝা যায়!! সবকিছুই এখন জায়েজ।

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, মিসরে শিক্ষার হাল খুবই নিচে নেমে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি।

আয়া ইউসুফের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তিনি যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন সেখান থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। কয়েক বছর ধরে ঐ বিদ্যালয়ে তিনি আরবি বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

আয়া ইউসুফ বলছেন, তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে আর কখনো তিনি নাচ করবেন না আর তার এই ভাগ্যপরীক্ষার সময়টাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নীল নদের একটা নৌকায় মাত্র ১০টা মিনিট আমার জীবনটা শেষ করে দিল।

আরো পড়ুন: সৌদিতে যৌন হয়রানির মামলায় অপরাধীর নাম প্রকাশ

এ ঘটনায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। তারা বলছে, আয়া ইউসুফ কোনো ভুল করেননি এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে এ অবস্থায় ফেলা হয়েছে।

এই শিক্ষকের সমর্থনে ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়ে নিজের মেয়ের বিয়েতে নাচের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়েছেন অন্য একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

ইজিপশিয়ান সেন্টার ফর উইমেনস রাইটসের প্রধান নিহাদ আবু কামসান আয়া ইউসুফকে তার অফিসে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার চুক্তির কাগজপত্র সঙ্গে আনতে বলেছেন যাতে তার বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

আর এর পরই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন তাকে নতুন করে নতুন পদে নিয়োগ দিয়েছে।

আয়া ইউসুফের অভিযোগ, পুরো বিষয়টাতে তার গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি কোনো পাবলিক ইনস্টিটিউশনে বা শিক্ষার্থীদের সামনে নাচ করেননি। এছাড়া যিনি ভিডিওটি করেছিলেন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কথাও ভাবছেন তিনি।

২০১৮ সালে এক মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপককে ফেসবুকে তার একটি নাচের ভিডিও পোস্ট করায় সুয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

আরো পড়ুন: টিকা না নেয়াদের ওপর করারোপ করছে কানাডা

বিশিষ্ট রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানী ও একজন নারীবাদী এবং নারী অধিকারের প্রবক্তা সাইদ সাদেক বলেন, ‘সম্প্রতি মিশরে নারীদের বিরুদ্ধে নৈতিক ‘ডাইনী শিকার’ শুরু হয়েছে’।

‘জনসাধারণের নৈতিকতা রক্ষার নামে মিডিয়ায় নৈতিক নারী-সম্পর্কিত বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বেশি প্রচার করা হচ্ছে। সবসময় শুধু নারীদের পোশাক এবং আচরণ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু পুরুষদের নিয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে এবং সামাজিকভাবে তাদের হেয় করা হচ্ছে’।

সাদেক বলেন, ‘এটি এমন একটি কৌশল যা চলমান গুরুত্বপূর্ণ সংকট যেমন জিইআরডি, দুর্নীতি, ইত্যাদির দিক থেকে জনসাধারণের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর জন্য ব্যবহৃত হয়’।

তিনি আরো বলেন, ‘অথচ শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক, স্কুল, ল্যাব এবং সাধারণভাবে মানসম্মত শিক্ষার অভাব রয়েছে। নিজেরা সমালোচনা থেকে বাঁচতে তারা এমন একজন শিক্ষকের পিছু নেয় যিনি শুধু একটু নেচেছেন’।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি

English HighlightsREAD MORE »