কিমের স্ত্রীর বিভীষিকাময় জীবন, খেতেও নিতে হয় অনুমতি

ঢাকা, শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৮,   ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

কিমের স্ত্রীর বিভীষিকাময় জীবন, খেতেও নিতে হয় অনুমতি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ২৬ নভেম্বর ২০২১  

কিমের স্ত্রীর বিভীষিকাময় জীবন, খেতেও নিতে হয় অনুমতি। ছবি সংগৃহীত

কিমের স্ত্রীর বিভীষিকাময় জীবন, খেতেও নিতে হয় অনুমতি। ছবি সংগৃহীত

কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন। ২০১২ সাল থেকেই তার পাশে একজন নারীকে মাঝে মধ্যে দেখা যায়। তারপরই জানা যায় যে, তিনি রি সল-জু। কিম জং-উনের স্ত্রী। তিনি উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি।

উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি রি সল-জুউত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি রি সল-জু তিন সন্তানের মা। বিয়ের আগে তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। তবে কিম জং-কে বিয়ের পর থেকেই তার সব কিছু পাল্টে যায়। কড়া শাসনের মধ্যে দিয়ে তার দিন কাটাতে হয়।

২০০৯ সালে একপ্রকার জোর করেই কিম জং উনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তার। উত্তর কোরিয়ার প্রাক্তন শাসক কিম জং ইল (কিম জং উনের বাবা)-এর নির্দেশেই রি সল-জু কে বিয়ে করেন কিম। জানা যায়, ২০০৮ সালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তখনই ছেলেকে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে শাসকের নির্দেশ অমান্য করার স্পর্ধা কার রয়েছে। 

২০০৯ সালে একপ্রকার জোর করেই কিম জং উনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারবিয়ের পর স্বামীর পদবি গ্রহণ করার রীতি রয়েছে সে দেশে। তবে রি সল-জুসের জীবনে অন্য কিছু ঘটেছিল। তাকে নিজের নামও বদলে ফেলতে হয়েছে। স্বামীর কিম জং-এর ইচ্ছেতেই এমনটা করতে হয়েছিল তাকে। শুধু তাই নয়, তার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তার জন্মস্থান, বয়স, ছেলেবেলা, বাড়ি সব তথ্যই লুকিয়ে রাখা রয়েছে।

রি সল-জু কোনো সাধারণ পরিবারের মেয়ে নন। এক শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারে জন্ম তার। বাবা কলেজের শিক্ষক এবং মা একটি হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের প্রধান। তার এক কাকার মাধ্যমেই উত্তর কোরিয়ার রাজ পরিবারের সঙ্গে পরিচয় তার। কাকা সেনা উপদেষ্টা ছিলেন। বিয়ের পর জীবন অনেকটাই পাল্টে যায় রি-র। নিজের ইচ্ছেতে এখন আর কিছুই তিনি করতে পারেন না। নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি নেই।

নিজের ইচ্ছেতে এখন আর কিছুই তিনি করতে পারেন নাকী পরবেন, কী খাবেন, কী ভাবেই সাজবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারও নেই রি-র। বিয়ের পর প্রথম প্রথম আধুনিক পোশাক পরতে দেখা যেত তাকে। তবে এখন আর সে সব পরতে পারেন না তিনি। রি কী পোশাক পরবেন সেটাও ঠিক করে দেন কিম। এখন জিনস পরাতেও নিষেধাজ্ঞা।

ইচ্ছে হলেও প্রকাশ্যে আসতে পারেন না। রি-কে কখনো প্রকাশ্যে একা দেখা যায় না। স্বামী কিমের অনুমতি মিললে তবেই তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারেন। তাও স্বামীর সঙ্গেই। তাই রি-কে যখনই দেখা যায়, পাশে তার স্বামী কিমও থাকেন। এমনকি তার সন্তানদেরও প্রকাশ্যে আসার অনুমতি নেই।

স্বামী কিমের অনুমতি মিললে তবেই তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারেন, তাও স্বামীর সঙ্গেইঅন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডি-রা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যান। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এ রকম কোনো কিছুতেই যুক্ত থাকার উপায় নেই রি সল-জু। কিম জং-এর সবুজ সঙ্কেত না মিললে নিজের ছবি তুলতে পারেন না তিনি। কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা কল্পনাতেও আনতে পারেন না। বিয়ের আগে দেশ-বিদেশে গিয়েছেন রি। চীনে তার পড়াশোনা এবং প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও গিয়েছেন। তবে বিয়ের পর সে সব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশের বাইরে বেরোনোর অনুমতি নেই।

বিয়ের পরই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যান, সেই সময়টা আরো ভয়ানক হয়ে উঠেছিলবিয়ের পরই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যান। সেই সময়টা আরো ভয়ানক হয়ে উঠেছিল। নিজের ঘরের বাইরে তখন পা রাখতে পারতেন না নিজের ইচ্ছায়। সে সময় তাকে একেবারেই দেখা যেত না। ২০০৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। ২০১০ সালে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম হয়। তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে। তৃতীয় সন্তান ছেলে। যত দিন না তাদের ছেলে হয়েছে, রি সল-জুকে বাধ্য করা হয়েছে সন্তানধারণ করতে। 

সূত্র: আনন্দবাজার 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ