থাইল্যান্ডের সেই দৈত্যাকার গাছের রহস্য

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

থাইল্যান্ডের সেই দৈত্যাকার গাছের রহস্য

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৮ ২৬ নভেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আট লাখ বছর আগে মাটির নিচে চাপা পড়েছিল একটি গাছ। উত্তর থাইল্যান্ডের একটি বনের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে গাছটির জীবাশ্ম। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এটিকে।

গাছের জীবাশ্মটি ৭২ দশমিক ২ মিটার বা ২৩৭ ফুট লম্বা। ধারণা করা হচ্ছে, জীবন্ত অবস্থায় গাছটির দীর্ঘ ছিল ৩৩০ ফুট। গাছটির কার্বন পরীক্ষা করে জানা যায়, অন্তত আট লাখ বছর আগে এই গাছ জীবিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, একটি আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনের ১০০ মিটার বা ৩৩০ ফুট উঁচুতে আসল গাছটির অবস্থান ছিল। ভূমিকম্প কিংবা ভূমি ধসে গাছটি মাটির নিচে চাপা পড়ে।

খুঁজে পাওয়া জীবাশ্ম গাছটি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ফ্রান্সের লিয়ন ইউনিভার্সিটির গবেষক মার্ক ফিলিপ। এক গবেষণা লেখনীতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, গাছটি বর্তমানের Koompassia elegans প্রজাতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। যেটি মটরশুঁটি, মটর এবং কালো পঙ্গপাল গাছের মতো একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি জানান, প্রাচীন গাছগুলো বর্তমানকালের লম্বা গাছগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত নয়। মজার বিষয় হলো, থাইল্যান্ডে আজ আর এমন গাছ নেই, যা প্রাচীন এই আকারের কাছাকাছি। 

কোয়াটারনারি সায়েন্স রিভিউ জার্নালের এপ্রিল সংখ্যায় ফিলিপ জানান, থাইল্যান্ডে আজকাল সর্বোচ্চ গাছগুলোর উচ্চতা প্রায় ৬০ মিটার বা ২০০ ফুট, থাইল্যান্ডে এখনও পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ গাছ হলো একটি ক্রাবাক গাছ; যা ৫৮ মিটার বা ১৩০ ফুট লম্বা।

ফিলিপ জানান, যে জীবাশ্ম গাছগুলো পাওয়া গেছে তা থেকে বোঝা যায়, একটি নিচু সমভূমির প্রান্তে একটি আর্দ্র বনে এসব গাছের অবস্থান ছিল। জীবাশ্ম গাছগুলো বর্তমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০ মিটার বা ৫৫০ ফুট উচ্চতায় রয়েছে। কোনো বর্ষাকালে গাছটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে গাছগুলো পড়ার পর থেকে এই অঞ্চলের কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

মাটির নিচে এই গাছ যেভাবে পাওয়া গেল তা নিয়ে একটি গল্প রয়েছে। দশ বছর আগে দেশটির তাক প্রদেশের বান টাক জেলার একটি সংরক্ষিত বনে গ্রামবাসীরা বড় একটি গাছের ছোট একটি অংশ খুঁজে পেয়েছিলেন। তারা এ খবর দেশের জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানায়। এতে এক গবেষক ওই স্থানটিসহ আশেপাশের এলাকায় জরিপ করেছিলেন। তারা তখন ২১ মিটার বা ৭০ ফুটের মতো খনন করে। এতেও অনাবিষ্কৃত থাকে গাছটি। পরে গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার আনা হয়। এতে দেখা গেছে ৩০ মিটার বা ১০০ ফুট ট্রাঙ্ক এখনও অনাবৃত রয়েছে। পরে ২০০৫ সালে, পুরো ট্রাঙ্ক খননের জন্য তহবিল গঠন হয়। বর্তমানে, আবিষ্কৃত নয়টি পেট্রিফাইড ট্রাঙ্কের মধ্যে সাতটি খনন করা হয়েছে। যার বেশিরভাগই ২০০৫ সালে।

যার ফলে বিশ্বের দীর্ঘতম পেট্রিফাইড কাঠের টুকরো হিসাবে বিবেচিত, এই গাছের ফসিল আবিষ্কৃত হয়। ২০০৬ সালে, আকর্ষণীয় এই আবিষ্কারের কারণে বনটির নাম পরিবর্তন করে ‘পেট্রিফাইড ফরেস্ট পার্ক’ রাখা হয়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, এটি বর্তমান পৃথিবীর এক বিরল আবিষ্কার। বিশ্বে খুঁজে পাওয়া আদি নিদর্শনের অন্যতম একটি নিদর্শন এটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে