গুলিতে নিষ্প্রাণ স্বামী, চেয়ারম্যান হচ্ছেন স্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

গুলিতে নিষ্প্রাণ স্বামী, চেয়ারম্যান হচ্ছেন স্ত্রী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২১ ২৬ নভেম্বর ২০২১  

শেফালী আক্তার

শেফালী আক্তার

চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ। স্বামীর মৃত্যুর পর চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হয়েছেন তার স্ত্রী শেফালী আক্তার। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার সাহা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল। ওই দিন বানিবহ ইউনিয়নের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নিহত লতিফের স্ত্রী শেফালী আক্তার। তিনি একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য।

শেফালীর স্বামী আবদুল লতিফ মিয়া ছিলেন বানিবহ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন। ১১ নভেম্বর রাতে জনসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। রাতেই ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন স্ত্রী শেফালী আক্তার। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন এজাহারভুক্ত এবং দুজন সন্দেহভাজন আসামি।

নিহত লতিফের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, এ নির্বাচনে দল থেকে আমার স্বামীকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল। ইউনিয়নে তার অনেক জনপ্রিয়তা দেখে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এ ইউনিয়নকে নিয়ে আমার স্বামীর কিছু স্বপ্ন ছিল। আমি নির্বাচিত হলে স্বামীর স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাবো। এজন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাই।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার সাহা বলেন, তফসিল অনুযায়ী এ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। ওইদিন বানিবহ ইউনিয়নের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শেফালী আক্তার মনোনয়ন জমা দেন। তবে শেফালী আক্তারকে এখনি বিজয়ী বলা যাবে না। কারণ ওই মনোনয়ন যাচাই-বাছাই এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে পরে তাকে বিজয়ী বলা যাবে।

চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৪৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৫৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়ন বাছাই ২৯ নভেম্বর ও প্রত্যাহার ৬ ডিসেম্বর।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর