২৬ নভেম্বর ১৯৭১: মুক্তিবাহিনী রংপুর ও দিনাজপুরের প্রায় সাড়ে ৪০০ বর্গমাইল এলাকা মুক্ত করে

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

২৬ নভেম্বর ১৯৭১: মুক্তিবাহিনী রংপুর ও দিনাজপুরের প্রায় সাড়ে ৪০০ বর্গমাইল এলাকা মুক্ত করে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৭ ২৬ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:০৭ ২৬ নভেম্বর ২০২১

মুক্তিবাহিনী রংপুর ও দিনাজপুরের প্রায় সাড়ে ৪০০ বর্গমাইল এলাকা মুক্ত করে। ফাইল ছবি

মুক্তিবাহিনী রংপুর ও দিনাজপুরের প্রায় সাড়ে ৪০০ বর্গমাইল এলাকা মুক্ত করে। ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর দিনটি ছিল শুক্রবার। এই দিন শিলিগুড়ি থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে যে, মুক্তিবাহিনী রংপুর ও দিনাজপুরের প্রায় সাড়ে ৪০০ বর্গমাইল এলাকা মুক্ত করেছে।

কুষ্টিয়ার দর্শনা রেলস্টেশন এলাকায় প্রচন্ড লড়াই চলছে। এদিকে দিনাজপুর জেলার পচাগড় এবং খুলনা জেলার বসন্তপুরের পতন ঘটেছে মুক্তিবাহিনীর হাতে।

ঝিনাইদহ পাঁচমাথার মোড়ে (ফাইভ পয়েন্ট ক্রসিং) মুক্তিবাহিনী আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করায় যশোর ক্যান্টনমেন্টের সঙ্গে পাকফৌজের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বিচ্ছিন্ন। মুক্তিবাহিনী পাঁচমাথার মোড়ে কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা রাস্তায় বিরাট ব্যারিকেড গড়ে তোলায় ঝিনাইদহ থেকে পাকসৈন্যরা যশোরের দিকে যেতে পারছে না।

ঈশ্বরদীর টেলিফোন একচেঞ্জ মুক্তিযোদ্ধারা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। থানা আক্রমণ করে অনেক অস্ত্রশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা দখল করেছে। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

রংপুরে মুক্তিবাহিনীর দুর্নিবার গতির সামনে পাক হানাদাররা বেসামাল হয়ে পড়েছে। হানাদারদের ঘাঁটি পারুলিয়া ধ্বংস করে মুক্তিফৌজ হাতিবান্ধা থানাটি সম্পূর্ণভাবে দখল করে নিয়েছে। রংপুরের রৌমারী, পাটগ্রাম, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও আরো অনেক মুক্ত এলাকায় বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।

কিশোরগঞ্জের প্যারাভাঙ্গা নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে আট জন পাকসেনাকে খতম করে শেষ পযন্ত সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে এইদিন শহীদ হন খায়রুল জাহান। মুক্তিযুদ্ধকালে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে তিনি ভারতের আগরতলায় মেজর হায়দারের অধীনে প্রথমে ২ নম্বর সেক্টর ও পরে মেজর শফিউল্লাহর অধীনে ৩ নম্বর সেক্টরে গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন।

প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানি এক সামরিক আদেশে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সকল কমিটি, উপ-কমিটি নিষিদ্ধ করে পার্টির নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ