ফুটপাতে পড়ে আছেন বৃদ্ধ, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফুটপাতে পড়ে আছেন বৃদ্ধ, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২৬ ২৪ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:২৬ ২৪ নভেম্বর ২০২১

খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে বৃদ্ধের কাছে যান ইউএনও

খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে বৃদ্ধের কাছে যান ইউএনও

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঝাউতলা নামক স্থানে এক নির্মাণাধীন দোকানে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে পড়ে আছেন এক বৃদ্ধ। কেউ খাবার দিলে খায়, না দিলে না খেয়েই থাকেন তিনি।

এ খবর পৌঁছে যায় মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল পর্যন্ত। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে ওই বৃদ্ধের কাছে যান ইউএনও। তিনি বৃদ্ধের খোঁজ খবর নেন এবং প্রাথমিকভাবে তাকে খাদ্য ও শীতবস্ত্র সহায়তা দেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৃদ্ধের নাম ইমান আলী শেখ (৮৫)। তিনি সদকী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত হাতিম আলী শেখের ছেলে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ইমান আলী শেখের এক ছেলে ও মেয়ে ছিল। কর্মজীবনে তিনি একজন কৃষক ছিলেন। নিজের সামন্য কৃষিজমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করতেন। প্রায় ২০ বছর আগে তার জায়গা জমি বিক্রি করে দেন সন্তানেরা। কিন্তু সন্তানেরা তার কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

ঈমান আলী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড তেবাড়িয়া এলাকায় বোনের বাড়িতে চলে আসেন। বোনের বাড়িতে এক পরিত্যক্ত টিনের ঘরে কোনো রকমে চলছিল জীবন। কিন্তু মেরামতের অভাবে বোনের বাড়ির ঘরটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। স্থান হয় ঝাউতলা এলাকার ফুটপাতে। শীতের কারণে ফুটপাত থেকে ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন দোকান ঘরেই কাটছে তার দুঃখ দুর্দশার জীবন।

এ বিষয়ে তার বোনের ছেলে তেবাড়িয়া এলাকার মো. সাদেক বলেন, মামা প্রায় ২০ বছর আমাদের বাড়িতেই ছিল। আমারও ৫ জনের সংসার। একটি ছোট হোটেলে কাজ করি। নিজেরই চলেনা। তাছাড়াও মামা যে ঘরে থাকত, তা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। মামার ছেলে মেয়েদের কোনো ঠিকানা জানি না। তাই মামা এখন ফুটপাতেই থাকেন। আমি শুধু খাবার দিয়ে যাই। এলাকাবাসীও তাকে খাবার দেন।

তিনি আরো বলেন, আমার বাড়িতে জমি আছে। কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই নির্মাণ করে দিলে মামাকে আবার বাড়ি নিয়ে যেতাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  বিতান কুমার মন্ডল বলেন, লোকমুখে শুনে বৃদ্ধের খোঁজ খবর নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ভাবে তার স্বজনদের হাতে খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। তার একটা নিরাপদ আবাস্থল নির্মাণ করার পরিকল্পপনা চলছে।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ