রোনালদোর দেহরক্ষী যমজ ভাই আফগানিস্তানের যোদ্ধা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

রোনালদোর দেহরক্ষী যমজ ভাই আফগানিস্তানের যোদ্ধা

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৫ ২৪ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৩ ২৪ নভেম্বর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের তালিকা করলে একদম উপরের দিকে আসবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম। তবে এই জনপ্রিয়তা যে সবসময় সুখের, এমন না। তাই নিরাপত্তার জন্য ও খ্যাতির বিড়ম্বনা সামলাতে অন্যান্য তারকাদের মতো তাকেও নিতে হয়েছে দেহরক্ষী।

যাকে তাকে দেহরক্ষী নির্বাচন করলেও থাকে বিপদের সম্ভাবনা। আর তাই দেহরক্ষী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারকাদের খুব সাবধান থাকতে হয়। আর সবকিছু যাচাই বাছাই করে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা যমজ ভাইকে দেহরক্ষী হিসেবে বেছে নিয়েছেন রোনালদো।

রোনালদোর জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্পেন, ইংল্যান্ড ও ইতালিয়ান ফুটবল মাতানো এই পর্তুগিজ তারকা এবং তার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন যমজ ভাই। এলিট ফোর্সের সদস্য হিসেবে তারা যুদ্ধ করেছেন আফগানিস্তানে। 

গত আগস্টে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরেন রোনালদো। তারপর দুজনকে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে রোনালদো সুইজারল্যান্ডের পথে উড়াল দেওয়ার সময় তার সঙ্গে এই দুই দেহরক্ষীকে দেখা যায়।

এ মাসের শুরুতে কন্যা সন্তান আলানা মার্টিনার জন্মদিনে পার্টি দেন রোনালদোর প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজ। তখন সেই দুই দেহরক্ষীদের মধ্যে একজনকে তাদের সঙ্গে দেখা গেছে। নানা জল্পনা কল্পনা শেষে জানা গেছে এই দুই দেহরক্ষীর পরিচয়।

দেহরক্ষীদের সঙ্গে রোনালদোদুই দেহরক্ষীর একজনের নাম সার্জিও রামালেইরো, আরেকজন জর্জ রামালেইরো। আফগানিস্তানে যুদ্ধে যাওয়ার আগে পর্তুগালের পুলিশ বিভাগের সদস্য ছিলেন এই দুই ভাই। পুলিশে থাকতে বিচারক ও রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা।

পর্তুগিজ সেলিব্রিটি সাময়িকী ‘ফ্লাশ’ জানিয়েছে, সার্জিও ও জর্জের আরো একটি ভাই আছে। তিনজন একই সঙ্গে জন্মেছেন। তাদের মধ্যে রোনালদোর দেহরক্ষীর চাকরি পাওয়া দুই ভাইকে অবৈতনিক ছুটিতে যেতে বলেছিল পর্তুগিজ পুলিশ বিভাগ। এই বিভাগ থেকে তাদের অন্য কোনো লক্ষ্য থাকলে তাতে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরই রোনালদোর ডাক পান দুই ভাই।

সার্জিও ও জর্জের অন্য ভাইটির নাম আলেক্সান্দ্রে রামালেইরো। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি এখনো পুলিশে কর্মরত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সার্জিও ও জর্জ অভিজাত পোশাক পরিধান করে। যদিও তাদের দেখে সাধারণই মনে হয়। ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে পারে। সঠিক সময়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

রোনালদো সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। অপরাধী চক্রের ‘লক্ষ্যবস্তু’তে পরিণত হয়েছেন- এমন খবর আগেই পৌঁছেছে রোনালদোর কানে। সে জন্যই নিরাপত্তা জোরদার করা। 

এর আগে রোনালদোর দেহরক্ষী ছিলেন সাবেক এক মিক্সড-মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় এবং আরেকজন এলিট ফোর্সে কাজ করা সাবেক প্যারাট্রুপার। নুনো মারেকোস নামের সাবেক এ প্যারাট্রুপারকে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে তার সঙ্গে দেখা গেছে। 

২০১৮ সালে কিয়েভে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে রোনালদোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজে দেখা গেছে সাবেক এমএমএ খেলোয়াড় গনকালো সালগাদোকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল