কুষ্টিয়ায় ধর্ষণের পর হত্যা, চারজনের যাবজ্জীবন 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণের পর হত্যা, চারজনের যাবজ্জীবন 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৭ ২৪ নভেম্বর ২০২১  

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণের পর হত্যা, চারজনের যাবজ্জীবন  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণের পর হত্যা, চারজনের যাবজ্জীবন  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ হত্যার দায়ে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের উভয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলে জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের সাদুর ছেলে কাবুল ওরফে কালু, একই উপজেলার চাঁদগ্রামের বিশুর ছেলে মোস্তাক আলী মস্তান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোস্তাক আলীর ছেলে গোলাম রেজা রোকন এবং সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে মিলন। তাদের মধ্যে আসামি গোলাম রেজা রোকন ও মোস্তাক আলী পলাতক রয়েছেন। 

রায় ঘোষণার সময় অপর আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কালু এবং মিলন আলীকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। 

জানা যায়, মালেকা বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন। তিনি দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামের মৃত ভক্ত বিশ্বাসের মেয়ে। তিনি আল্লাহরদর্গা গ্রামের একটি সিগারেট ফ্যাক্টরির পাশে ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করার পাশাপাশি ভেড়ামারায় ডাল মিলে চাকরি করতেন। সেখানে তিনি প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে পরেরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করতেন। 

প্রতিদিনের মতো ২০০১ সালের ১২ আগস্ট বিকালে আল্লাহর দর্গার বাসা থেকে কর্মস্থল ভেড়ামারার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরের দিন বাসায় না ফিরলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, ভেড়ামারা উপজেলার বামনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকরাম আলীর বাড়ির পাশে একটি বাঁশঝাড়ের মধ্যে মৃত অবস্থায় একটি লাশ পড়ে আছে। পরে পরিবারের লোকজন সেখানে যান এবং মালেকা বেগমের মরদেহ শনাক্ত করে। ১৩ আগস্ট রাতের যেকোনো সময় ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। আসামিদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রথমে অপহরণ করে এবং ধর্ষণের পর হত্যা করে।  

ভেড়ামারা থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরে নিহত মালেকা বেগমের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন হয়। 

মামলার তদন্ত শেষে ভেড়ামারা থানা পুলিশের এসআই মাকসুদুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বুধবার আদালত এ রায় দেন। 

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কালু এবং মিলন আলীকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে