হারিয়ে যাচ্ছে সুগন্ধি ‘কালোজিরা’ 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮,   ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

হারিয়ে যাচ্ছে সুগন্ধি ‘কালোজিরা’ 

রামিম হাসান, ঝিনাইদহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৪ ২৪ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৬:২৫ ২৪ নভেম্বর ২০২১

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুগন্ধি ‘কালোজিরা’ ধান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুগন্ধি ‘কালোজিরা’ ধান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় কালোজিরা ধান যা স্থানীয় ভাষায় কালোজিরা ধান হিসেবে বেশ পরিচিত। এক সময় উপজেলার কৃষকরা বিভিন্ন ধানের পাশাপাশি এই কালোজিরা ধানের চাষও করতেন। কিন্তু অতিরিক্ত খরচ হিসেবে লাভের অংকটা কম হওয়ায় কালোজিরা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। আর এই কালোজিরা ধানের জায়গা দখল করে নিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান।

জানা যায়, সুগন্ধি এ চিকন চাল দিয়ে তৈরি হয় পিঠা-পুলি, পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির, পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরর বিভিন্ন পূজায় বিভিন্ন রকম খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এই কালোজিরা ধানের ‘চিকন চাল’। ফলে সবার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল এই চাল।

কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুগন্ধি ‘কালোজিরা’ ধান। বেশি খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ার কারণে এই ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে শৈলকুপা পৌরসভা ও ১৫টি ইউপির কৃষকরা। তবে সরকারিভাবে কৃষকদের ধান আবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রদর্শনী প্লট প্রকল্প গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথ থেকে ফেরানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুগন্ধি ‘কালোজিরা’ ধান।

সরেজমিনে শৈলকুপার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্র আমন ধানের চাষ। কালোজিরা ধানের চাষ একেবারেই নেই বললেই চলে। 

শৈলকুপার সাতগাছি, হাজামপাড়া, বিজুলিয়া, দামুকদিয়াসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে বুঝা গেল বিলুপ্তিতে এই কালোজিরা ধানের চাষ। 

৬০ বছর বয়সী শফি মোল্লা নামে আরেক কৃষক জানান, গুরা ধানের (কালোজিরা ধান) চাল অনন্য চালের তুলনায় দামও বেশি।

প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা। আর তাছাড়া এখন কেউ কালোজিরা ধান তেমন একটা করেনা। কারণ আমন ধানের চাষ করে যে জমিতে ১০ টন ধান পাওয়া যায় একই জমিতে কালোজিরা ধান চাষ করলে পাওয়া পাওয়া যাবে ৬ টন। তাই লাভের কথা মাথায় রেখে আমন ধানে আগ্রহী কৃষকরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে