পরীক্ষার্থীর ওড়না ধরে টান, প্রতিবাদ করায় হাসপাতালে ৫ সহপাঠী

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

পরীক্ষার্থীর ওড়না ধরে টান, প্রতিবাদ করায় হাসপাতালে ৫ সহপাঠী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০৯ ২৩ নভেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর ওড়না ধরে টান দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাঁচ সহপাঠীকে পিটিয়ে আহত করেছে বখাটেরা।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আশুজিয়া বানেটেক কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- এসএসসি পরীক্ষার্থী সোপান, নাঈম, রিয়াদ, মোস্তফা ও রানা। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মোস্তফা ও রানাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে পৌরনীতি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে আশুজিয়া বানেটেক কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান একই উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের ওই পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়ার সময় ওই ছাত্রীর ওড়না ধরে টান দেয় স্থানীয় ভগবতীপুর গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে হৃদয়, সিংহেরগাঁও গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে সজীব ও একই গ্রামের রাজিব।

এ সময় বিষয়টি প্রতিবাদ করেন মেয়ের সহপাঠী সোপান, নাঈম, রিয়াদ, মোস্তফা ও রানা। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর শুরু করে ওই বখাটেরা। এতে ওই পাঁচ পরীক্ষার্থী আহত হন।

আশুজিয়া জেএনসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. এজাহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় ঘটেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে মিটিং ডেকেছি। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আশুজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মীমাংসার জন্য সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সালিশ বৈঠক বসবে। এতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সালিশে ঘটনাটি সমাধান করতে না পারলে আমরাই আইনের দ্বারস্থ হবো।

সান্দিকোনা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, আশুজিয়ার চেয়ারম্যান ঘটনাটি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু আমাদের পাঁচটা ছেলে আহত। এর মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাই এ অবস্থায় বিষয়টি মীমাংসার সালিশে বসা সম্ভব নয়।

কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর