কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন 

ঢাকা, রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮,   ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৬ ২৩ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২০:০০ ২৩ নভেম্বর ২০২১

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে আব্দুল ওয়াহেদ নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যায় দায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার সুগ্রীবপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আজিজ ওরফে মনি পাল, একই গ্রামের মৃত চাঁদ আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এবং মৃত ইজ্জত আলী পালের ছেলে আনোয়ার আলী। তাদের মধ্যে আসামি আব্দুল আজিজ পলাতক রয়েছেন। 

রায় ঘোষণার সময় অপর আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল খালেক এবং আনোয়ার আলীকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলার অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। 

জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই রাতে আব্দুল ওয়াহেদের বাড়িতে আজমতের একটি গরু প্রবেশ করে এবং তার বেঁধে রাখা গরুকে শিং দিয়ে আঘাত করে। তখন আব্দুল ওয়াহেদ লাঠি দিয়ে মেরে তাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করে। এসময় আসামি আব্দুল আজিজের হুকুমে আজমত আলীসহ একদল মানুষ লাঠিসোঁটা, ছেন্দা, রামদা, রড এবং হাতুড়ি নিয়ে হামলা করে। এতে ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হয় আব্দুল ওয়াহেদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুলাই দুপুরের দিকে আব্দুল ওয়াহেদের মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সেদিন নিহত আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে ইবি থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন হয়। 

মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ইবি থানা পুলিশের এসআই হাবিবুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার আদালত এ রায় দেন। 

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল খালেক এবং আনোয়ার আলীকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দন্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি আব্দুল আজিজ পলাতক রয়েছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে