শরীরে ফোটানো হচ্ছে বিষাক্ত সুচ, আতঙ্কে ব্রিটিশ তরুণীরা!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরীরে ফোটানো হচ্ছে বিষাক্ত সুচ, আতঙ্কে ব্রিটিশ তরুণীরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ২৫ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে নারীদের টার্গেট করে সুচ ফুটিয়ে হেনস্তা করার প্রবণতা বাড়ছে। গত সপ্তাহে নটিংহ্যামের একটি নাইটক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীকেও এভাবে সুচ ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে।

লিজি উইলসন নামের ওই তরুণী জানান, আচমকা পিঠে সূক্ষ্ম একটা ব্যথা টের পাই। বুঝতে পারি কেউ একজন সুচ বিঁধিয়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আততায়ী চলে যায় আড়ালে।

তিনি আরো বলেন, মিনিট দশেক পরই টের পাই পা নাড়াতে পারছি না। টলতে টলতে কোনোমতে বন্ধুদের ডাকি। তারাই এগিয়ে এসে উদ্ধার করে আমাকে।

এভাবে তরুণীদের টার্গেট করে ইদানীং ক্লাবগুলোর আশপাশে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করা হচ্ছে। দ্রুত লিজি উইলসনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কাউকেই যেনো যেতে না হয়। আমার মনে হচ্ছিল, আমার নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অবশ্য গত এক বছর ধরে ব্রিটেনে তরুণীদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। অপহরণ, খুন- এসবই এখন দেশটির বড় ইস্যু। বিভিন্ন স্থানে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হচ্ছে।

ব্রিটেনে এর আগে তরুণীদের গায়ে সুচ ফোটানোর বিষয়টি ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এখন সেই সংখ্যাটা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শুধু নটিংহ্যাম্পশায়ারেই সম্প্রতি এমন ১২টি ঘটনা ঘটেছে।

স্কটল্যান্ডের পুলিশের কাছেও আসছে এমন ঘটনার (স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে স্পাইকিং) অভিযোগ।

স্পাইকিংয়ের শিকার তরুণীরা বেশি হলেও, কিছু তরুণও এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। নটিংহ্যাম্পশায়ার পুলিশ বলছে, ইনজেকশন পুশ করেই সটকে পড়ছে আততায়ী। এখন পর্যন্ত এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে কোনও ধরনের যৌন নির্যাতনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আততায়ীরা মূলত নাইটক্লাবগুলোকে টার্গেট করেই এ কাজটা করছে।

নারী অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন নটিংহ্যাম্পশায়ারের সাবেক পুলিশ প্রধান ‍সু ফিশ। তিনি জানালেন, ‘আচরণের এরচেয়ে অবনতির কথা ভাবা যায় না। এমন ঘটনার শিকড় আরো গভীরে গাঁথা।’

ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল-এর অধ্যাপক ও সেখানকার অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফিয়োনা মিশাম জানালেন, “জাতীয় পর্যায়ে প্রতি বছরই কয়েকশ’ স্পাইকিংয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ঝুঁকি এখনও কম হলেও প্রতিটি অভিযোগকেই গুরুত্ব দিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করতে হবে। আমার মনে হয় এখানে ভীতিটা কাজ করছে বেশি। নাইটক্লাবগুলোর প্রতি ক্ষোভটাও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।”

দেশটির হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির প্রধান ইভেট কুপার জানালেন, ‘সমস্যাটার মাত্রা কতটা তা নিয়ে এখনও বাস্তবধর্মী কোনও গবেষণা হয়নি। এখনও এসব ক্ষেত্রে ভিকটিমের ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’

তরুণীদের ওপর এমন সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দেখা দিয়েছে প্রতিবাদ ও বিতর্ক। ব্রিটিশ তরুণীদের একটি অংশ প্রতিবাদ হিসেবে ক্লাবগুলোকে সাময়িক বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের কথা হলো, ক্লাবগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। প্রত্যেককে তল্লাশি করতে হবে। অন্যদিকে কিছু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, রাতে বাইরে বের হলে তরুণীরা যেনও শক্তপোক্ত পোশাক পরে।

এদিকে কিছু ইউনিভার্সিটির টুইট নিয়েও খেপেছেন ব্রিটিশ তরুণীরা। সম্প্রতি এক টুইটে ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তরুণীরা যেনও ইনজেকশন ফোটানোর ঝুঁকিযুক্ত স্থানগুলো এড়িয়ে চলে। প্রতিবাদের তোপে সেই টুইট মুছে ফেলতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী