‘শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় সাত শিশুসহ ১০ বেসামরিক নগরিক নিহতের কথা স্বীকার করে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিহতদের স্বজন ও আহতরা বলছেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ‘দুঃখ প্রকাশ’ বা ‘ক্ষমা চাইলেই’ হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

গত ২৯ আগস্ট ওই ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আইম্যাল আমাদি তার তিন বছরের কন্যা শিশুকে হারান। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এই হামলা কারা চালিয়েছে তা ওয়াশিংটনের তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। আমি পরিবারের ১০ সদস্যকে হারিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সংস্থার কাছে ন্যায় বিচার চাই। আমরা নিরীহ, আমাদের তো কোনো ভুল ছিল না।

নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চান। তারা হতাহতদের জন্য ন্যায় বিচার চেয়েছেন এবং সম্ভব হলে তারা আফগানিস্তানও ছাড়তে চান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার অনুসন্ধান চালায় এবং তারা জানায়, ওই হামলায় নিহতরা কেউ আইএস জঙ্গি ছিল না।

এরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে জানা যায়, ড্রোন হামলা চালানো সেই গাড়িটি আসলে এক ত্রাণ সহায়তা কর্মীর ছিল। সেই হামলায় ওই ত্রাণ সহায়তা কর্মীসহ তার পরিবারের ৯ সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে ৭ শিশু ছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ওই গাড়িকে শনাক্ত করে ড্রোন হামলা চালানোর আট ঘণ্টা আগে। তারা ধারণা করেছিল, ব্যক্তিগত গাড়িটি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস–কের কোনো আত্মঘাতী হামলাকারীর। তিনি আরও বলেন, এ হামলা ছিলো সত্যিই ‘মর্মান্তিক ভুল’।

এর আগে ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে যখন উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল তখন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আফগান আইএস। এতে ১৭০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এর মধ্যে ১৩ মার্কিন সেনা রয়েছে। এরপরই হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন অভিযান পরিচালনায় বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী