যুক্তরাষ্ট্রে নষ্ট হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি ডোজ করোনার টিকা

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

যুক্তরাষ্ট্রে নষ্ট হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি ডোজ করোনার টিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩১ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ২১:৩২ ২ আগস্ট ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বহু দেশে যখন করোনা মহামারির বিস্তার ফের বাড়তে শুরু করেছে, ঠিক এমন সময় যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ টিকা নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি একটি জরিপের তথ্য বলছে, ডিসেম্বরে দেশটিতে টিকাদান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি রাজ্যে ১০ লাখের বেশি ডোজ টিকা নষ্ট হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা দেওয়ার চাহিদা কমে যাওয়াতেই মূল ক্ষতিটা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, জর্জিয়ায় সবচেয়ে বেশি এক লাখ ১০ হাজার ডোজ টিকা ধ্বংস করা হয়েছে। নিউজার্সিতে নষ্ট হওয়া ৫৩ হাজারের বেশি ডোজের মধ্যে শুধু জুনেই নষ্ট হয়েছে ২০ হাজার ডোজ টিকা। এর আগে এপ্রিলে এই রাজ্যে নষ্ট করা হয়েছিল চার হাজার ডোজ।

এছাড়া ওহিওতে তিন লাখ ৭০ হাজার ডোজ টিকা ব্যবহার অনুপযোগী বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। মেরিল্যান্ডেও প্রায় ৫০ হাজার ডোজ টিকা অব্যবহৃত রয়েছে।

কর্মকর্তারা টিকা অপচয়ের বেশকিছু কারণও জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভেঙে যাওয়া, সংরক্ষণ ও পরিবহন সমস্যা, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া। এছাড়া অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে টিকা না নেওয়ায় অনেক টিকা ব্যবহার করা যায়নি।

কেন্দ্রী থেকে রাজ্যগুলোতে যত পরিমাণ টিকা পাঠানো হয়েছিল তার তথ্য এই জরিপের তথ্যে নেই। নষ্ট হওয়া আরও টিকার তথ্য হিসাবে আসেনি।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন টিকা নষ্টের বিষয়টি নজরদারি করলেও পুরো দেশে কি পরিমাণ টিকা নষ্ট হচ্ছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে টিকার বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু তারপরও নাগরিকরদের টিকা নিতে উৎসাহিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কতটা বেগ পেতে হচ্ছে তা টিকা নষ্ট হওয়ার তথ্যেই প্রমাণিত হয়।  

অবশ্য কয়েকটি রাজ্যে টিকাদানের হার বাড়ছে। তিন সপ্তাহ আগে দেশটিতে দৈনিক টিকাদান গড়ে পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে সাড়ে ছয় লাখ ডোজে উন্নীত হয়েছিল। শুক্রবার তা সাড়ে আট লাখে পৌঁছায়।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনও পুরোপুরি টিকা পায়নি।

অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল হেলফ অফিসিয়ালসের মেডিকেল অফিসার মার্কাস প্লেসিয়া বলেন, “প্রথমদিকে এটি এমন একটি সমস্যা ছিল যখন মানুষ চেয়েও (টিকা) পায়নি। আর এখন সঙ্কট হচ্ছে এটি যথেষ্ট থাকার পরও মানুষ নিতে চাইছে না।”

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী