বাবা-মাকে নির্যাতন, আদালতের নির্দেশে ছেলে-বৌকে বাড়ি থেকে বের করে দিল পুলিশ

ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১১ সফর ১৪৪৩

বাবা-মাকে নির্যাতন, আদালতের নির্দেশে ছেলে-বৌকে বাড়ি থেকে বের করে দিল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১২ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৮:১৩ ২ আগস্ট ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অনেক আশা নিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন ছেলের। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বৌমার হাতে নিপীড়িত হতে থাকেন। ছেলে তা দেখেও যেন দেখে না। বৃদ্ধ বয়সে এক প্রকার গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছিল উত্তরপাড়ার বাসিন্দা প্রতাপ এবং অঞ্জনা মুখোপাধ্যায়কে। বাধ্য হয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তার পরই ছেলে এবং বৌমকে বাড়়ি থেকে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন হাই কোর্টের বিচারপতি। আদালতের নির্দেশে পুলিশ সোমবার প্রতাপের ছেলে-বৌমাকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরপাড়ার ১৮/এ ভবানী সেন সরণিতে থাকতেন প্রতাপ এবং অঞ্জনা। তাদের অভিযোগ, ছেলে-বৌমা একতলার ঘরে তাদের বন্দি করে রাখতেন। গত কয়েক মাস ধরে তাদের দোতলার ঘরে ঢুকতে দেওয়া হত না, সিঁড়ি দিয়েও উঠতে দেওয়া গত না বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই তারা।

এদিকে প্রশাসনের মীমাংসা মানেননি তাদের ছেলে এবং বৌমা। এর পর ২১ জুন কলকাতা হাই কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন বৃদ্ধ দম্পতি। ২৭ জুন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা, বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে-বৌমাকে বাড়ি তেকে বিতাড়িত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।

বিচারপতি জানিয়েছিলেন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ছাড়া ওই বাড়িতে আর কারও অধিকার নেই। এমনকি বাড়িতে ঢুকতে গেলে ছেলে-বৌমাকে বাবার অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে।

হাই কোর্টের নির্দেশ মতো, সোমবার উত্তরপাড়া থানার পুলিশ যায় প্রতাপের বাড়ি। ছেলে সুশান্ত এবং বৌমা পম্পাকে বার করে দেয় বাড়ি থেকে। তাদের জিনিসপত্রও বের করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রতাপ এবং অঞ্জনা বলেছেন, ‘ছেলেকে বাড়ি থেকে বার করে দিতে মন চায়নি। কিন্তু ২০১৩ থেকে যেভাবে অত্যাচারের শিকার হয়েছি, এ ছাড়া উপায় ছিল না।’

এদিকে বাবা-মাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সুশান্ত বলেছেন, ‘বিয়ের পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। বাবা-মা বিবাহবিচ্ছেদ করতে বলেন। আমি তা করিনি বলেই এই পরিস্থিতি।’

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী