অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্ব বাতিল করলো ইকুয়েডর

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্ব বাতিল করলো ইকুয়েডর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৬ ২৮ জুলাই ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। নাগরিকত্ব বাতিলের কারণ হিসেবে অপরিশোধিত ফি ও নাগরিকত্ববিষয়ক নথি নিয়ে ঝামেলার কথা বলা হয়েছে ইকুয়েডর সরকারের পক্ষ থেকে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কারাবন্দি অ্যাসাঞ্জ।

জন্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইকুয়েডরের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ইকুয়েডরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরিনোর উদ্যোগে দেশটির নাগরিকত্ব পান তিনি।

লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে বের করার ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে তাকে কূটনীতিক করতে এ নাগরিকত্ব দেয় মোরিনো সরকার।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাসাঞ্জের ইকুয়েডোরিয়ান নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিচার বিভাগ।

ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয় এ চিঠি। তার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে দেশটির আদালতও।

সাধারণত প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন, ভুয়া নথিপত্র দাখিল বা প্রতারণার অভিযোগ উঠলে ভিনদেশিকে দেয়া দ্বিতীয় কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনা করা হয়।

ইকুয়েডোরিয়ান প্রশাসন জানিয়েছে, ভিনদেশি হিসেবে অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্বের কাগজপত্রে কোনো ধারাবাহিকতা ছিল না; মিল ছিল না স্বাক্ষরে। এ ছাড়া নথি পরিবর্তন ও অপরিশোধিত ফিসহ আরও বেশি কিছু ঝামেলা আছে।

অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী কার্লোস পোভেদা জানান, নাগরিকত্ব বাতিলের এ সিদ্ধান্ত কার্যকরে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানা হয়নি; অ্যাসাঞ্জকে আদালতে হাজির হওয়ারও সুযোগ দেয়া হয়নি।

সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ও বিশদ ব্যাখ্যা চেয়ে আপিল করবেন জানিয়ে পোভেদা বলেন, ‘নাগরিকত্বের গুরুত্বের চেয়েও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই নাগরিকত্ব বাতিলের প্রশ্ন এটি।’

৫০ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে লন্ডনের উচ্চ নিরাপত্তা থাকা বেলমার্শ কারাগারে বন্দি আছেন। তারও সাত বছর আগে একটি মামলায় জামিনের শর্ত লঙ্ঘন ও আদালতে হাজিরা না দেয়ায় গ্রেপ্তার তিনি।

সুইডেন সরকারের কাছে হস্তান্তর এড়াতে ২০১২ সালে পালিয়ে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। সুইডেনে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা ছিল। অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মামলার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌনবিষয়ক অপরাধের অনুসন্ধান বাতিল করে স্টকহোম। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন অস্ট্রেলীয় সম্পাদক, প্রকাশক ও তথ্য অধিকারকর্মী অ্যাসাঞ্জ।

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা ও ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশ-বিদেশের লাখো গোপন ও স্পর্শকাতর সামরিক ও কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস করে বিভিন্ন সরকারকে ক্ষেপিয়ে তোলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ১৭টি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগসহ ১৮টি অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। সব অভিযোগ প্রমাণে ১৭৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ