এবার বিদ্যুৎ বিল বয়কট, অন্ধকারে মিয়ানমার

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১০ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

এবার বিদ্যুৎ বিল বয়কট, অন্ধকারে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৬ ২৫ জুলাই ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সেনা শাসনের বিরোধিতার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ বিল বয়কট করায় বিপাকে পড়েছে মিয়ানমারের এই খাত। আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও।

জাপান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর থেকেই নাগরিকরা বিদ্যুৎ বিল দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব আয় ৯০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

বর্তমানে দেশটিজুড়ে ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময়ই থাকছে লোডশেডিং। দেশটির সরকারি হাসপাতালগুলো লোড শেডিংয়ে পড়ার কারণে সেখানে প্রায় সার্বক্ষণিক জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এদিকে মিয়ানমারে জ্বালানি তেলের দামও ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চরম হুমকিতে পড়েছে সেখানকার জনস্বাস্থ্য পরিষেবা।

সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর সেখানকার বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় 'বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সরকার সহযোগিতা করতে পারছে না। বিদ্যুতের দাম ও সরবরাহও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।'

অভ্যুত্থানের কারণে বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা যায়নি। যেমন: ডিজিটাল মিটার বসানো, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগে সতর্কতা দেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করা, সংযোগ বাড়ানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া ইত্যাদি।

অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত চার হাজার ৫৮ জন সামরিক স্টাফকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিল সংগ্রহ ও কারিগরি সহযোগিতা দিতেন। সেনাদের ক্ষমতা দখলের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে কর্মী ছিলেন প্রায় ৫০ হাজার। এই চার হাজারের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করায় এর প্রভাব মন্ত্রণালয়ে পড়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাসীন অং সাং সু চিকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতার দখল নেয় সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দেশটির জনগণ বিক্ষোভ করে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।

মিয়ানমার সেনা বাহিনীর দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী