করোনার ভয়ে ১৫ মাস তাঁবুতে পুরো পরিবার, সেখানেই প্রস্রাব-পায়খানা

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

করোনার ভয়ে ১৫ মাস তাঁবুতে পুরো পরিবার, সেখানেই প্রস্রাব-পায়খানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:১০ ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ০০:১২ ২৩ জুলাই ২০২১

তাদের উদ্ধার করে পুলিশ

তাদের উদ্ধার করে পুলিশ

করোনার সংক্রমণ যখন হু হু করে বাড়ছিল, তখন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাদালি গ্রামে মারা যান এক ব্যক্তি। মৃত্যুর খবরে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে একই গ্রামের একটি পরিবার। করোনা থেকে বাঁচতে পরিবারটি ছোট তাঁবুর মধ্যে নিজেদের বন্দি করে ফেলে। টানা ১৫ মাস সেখানেই কাটিয়ে দিয়েছেন তারা।

শুধু তাই নয়, তাঁবুর ভেতরেই প্রস্রাব-পায়খানা করতেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের চুল-দাড়িও অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছিল। ঘরবন্দি থাকতে থাকতে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাদের সন্ধান পান এক স্বেচ্ছাসেবক।

অবশেষে সেই স্বেচ্ছাসেবকের দেওয়া খবরে বুধবার অসুস্থ অবস্থায় তাঁবুতে নিজেদের বন্দি রাখা সবাইকে উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

কাদালি গ্রামের সরপঞ্চ চোপ্পালা গুরুনাথ বলেন, ১৫ মাস আগে এক প্রতিবেশী করোনায় মারা যাওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী রুথাম্মা, ৩২ বছরের কানথামানি ও ৩০ বছরের রানী নিজেদের তাঁবুতে বন্দি করে ফেলেন। করোনার ভয়ে টানা এক বছর তিন মাস তারা তাঁবু থেকে বের হননি। এতদিন আশপাশের কেউ না জানলেও সম্প্রতি এক স্বেচ্ছাসেবী ভারতের গৃহহীনদের সরকারি আবাসন প্রকল্পে বাড়ি দেওয়ার জন্য হাতের ছাপ নিতে সেখানে যান। ওই তাঁবুতে গিয়ে পরিবারের করুণ অবস্থা লক্ষ্য করেন তিনি। দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ পরিদর্শক কৃষ্ণামাচারি জানান, তাঁবুতে থাকা একই পরিবারের তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শারিরীক ও মানসিক অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে গিয়েছিল। আর দু-তিনদিন তাঁবুতে থাকলে তারা মারা যেতেন। এরই মধ্যে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভারতে করোনাভাইরাসের প্রকোপে মানুষের মধ্যে ভীতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৪০ লাখের মতো মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ফাঙ্গাসের সংক্রমণও বেড়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর