পানির নিচ থেকে উদ্ধার হল প্রায় শত বছরের পুরোনো চিরকুট!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পানির নিচ থেকে উদ্ধার হল প্রায় শত বছরের পুরোনো চিরকুট!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১২ ২৩ জুন ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নদীর নিচে স্কুবা ডাইভিংয়ে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি, আর সেখানে তিনি আবিষ্কার করেন প্রায় শতবর্ষ আগে লেখা বোতলবন্দী একটি চিরকুট।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের চেবোয়গান নদীতে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় ১৯২৬ সালে লেখা এই চিরকুটটির সন্ধান পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেন্ডেন্ট জানায়, “নটিক্যাল নর্থ ফ্যামিলি অ্যাডভেঞ্চার” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জেনিফার ডওকার এ বোতলটি খুঁজে পেয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ জুন) নৌকার কাঁচের তলদেশের জানালা পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি সবুজ রঙের ভাঙা একটি কাঁচের বোতল খুঁজে পান। প্রথমে সাধারণ বোতল মনে করলেও বোতলের ভেতরে থাকা কাগজে কিছু একটা লেখা চোখে পড়লে সেটি নিয়ে তার কৌতুহল জাগে। বোতলটি পানি দিয়ে ভরা ছিল। বোতলের মুখ আটকানোর জন্য ব্যবহৃত ছিপিটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি খোলাই ছিল। পরে যন্ত্রের মাধ্যমে বোতলের ভেতরের থাকা বার্তা সম্বলিত কাগজটি বাইরে বের করে আনেন।

১৯২৬ সালের নভেম্বরের কাগজে লেখা ছিল, “যে ব্যক্তি এই বোতলটি খুঁজে পেয়েছে সে কি এই কাগজটি চেবোয়গান, মিশিগানের জর্জ মরোকে ফিরিয়ে দেবে এবং তাকে খুলে বলবে যে এটি কোথায় পাওয়া গেছে?”

চিঠির প্রাপক ওই নামের ব্যক্তিকে খুঁজতে জেনিফার তার প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজে বোতলটির একটি ছবি পোস্ট করেন। এই পোস্ট “ভাইরাল” হয়ে যায়। তাই ওই পোস্টটিতে ১ লাখের অধিক শেয়ার ও ৬ হাজারের বেশি মন্তব্য পরে। এর ঠিক দুইদিন পরেই বাবা দিবসের দিনই জর্জ মরোর মেয়ে মিশেল প্রিমাউয়ের কাছ থেকে খোঁজ আসে জেনিফারের ঠিকানায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় না থাকায় মিশেল প্রিমাউয়ের এ খবর জানতে সময় লেগেছিল। মিশেল তার এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে জেনিফারের পোস্টের ব্যাপারে জানতে পেরেছিলেন।

মিশেলের জন্মের অন্তত ২০ বছর আগে লেখা নোটটি তারই বাবার হাতে লেখা বলে জানান।

মিশেল বলেন, “নভেম্বর আমার বাবা জর্জের জন্ম মাস। হয়তো তিনি সে সময় ১৭ কিংবা ১৮ বছরের তরুণ হয়ে থাকবেন, যে নিছক খেয়ালের বশে উত্তর মিশিগানের ঠাণ্ডা পানিতে নোট লেখা বোতলটি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। বাবা সব সময়ই কিছুটা সংবেদনশীল ছিলেন। একবার এক লেকে পারিবারিক ভ্রমণের সময়ও তিনি বোতলের ভেতর বার্তা লিখে ছুঁড়ে মেরেছিলেন।”

উল্লেখ্য, জর্জ মরো ১৯৯৫ সালেই মারা গেছেন। বোতল এবং বার্তাটি জর্জের মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে চাইলেও তিনি সেটি গ্রহণ করেননি। জেনিফারের কাছে এটি রেখে দেয়া উচিত বলে মনে করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী