করোনায় বিপর্যস্ত ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা

ঢাকা, সোমবার   ০২ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৮ ১৪২৮,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

করোনায় বিপর্যস্ত ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৪ ১৮ জুন ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা এখনো পুরোপুরি সামলে ওঠেনি ভারত, এরমধ্যেই দেশটিতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে তৃতীয় ঢেউয়ের।

দেশটির বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই সেখানে আঘাত হানতে পারে এই তৃতীয় ঢেউ। শুধু তাই নয়, অন্তত আরও এক বছরের জন্য মহামারি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে থাকবে।

তবে তারা বলছেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়ে তৃতীয় ঢেউ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

গত ৩ -১৭ জুনের মধ্যে বিশ্বের ৪০ জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, ভাইরোলজিস্ট, এপিডেমিওলজিস্ট ও অধ্যাপকদের মধ্যে জরিপ চালায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে উঠে এসেছে, দ্রুত টিকাদানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কারণে নতুন সংক্রমণের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

জরিপে অংশ নেয়া বিশেষজ্ঞদের ৮৫ শতাংশের (২৪ জনের মধ্যে ২১ জন) মতে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসবে অক্টোবরে। কিন্তু তিনজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আগস্ট এবং ১২ জন বলছেন সেপ্টেম্বরেই আসতে পারে তৃতীয় ঢেউ। আর বাকি তিনজন বলেছেন, তৃতীয় ঢেউ আসবে নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

৩৪ জনের মধ্যে ২৪ জন বিশেষজ্ঞ (৭০ শতাংশ) বলছেন, নতুন সংক্রমণ এখনকার চেয়ে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ভারতে প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউ ছিল ভয়াবহ। টিকা স্বল্পতা, হাসপাতালে ওষুধ, অক্সিজন ও বেডের অভাব দেখা দিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর পরিচালক ড. রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। এখন অনেকে টিকা নিয়েছেন। তাছাড়া কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অনেকের দেহে প্রাকৃতিক কারণে প্রতিরোধশক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছে।

এখন পর্যন্ত ভারতে টিকা নেয়ার উপযুক্ত বিবেচিত ৯৫ কোটি মানুষেল মধ্যে সম্পূর্ণ ডোজ পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ। এতে করে অনেকেই এখনও সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন এই বছর টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে। দ্রুত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়েও তারা সতর্ক করেছেন। যদিও কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ে ১৮ বছরের কম বয়সীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন) বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এ আশঙ্কা রয়েছে।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস (নিমহ্যানস)-এর এপিডেমোলজি ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রদীপ বানানদুর বলেন, এখন কমবয়সীদের জন্য কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। তাই তাদের সংক্রমিত হওয়ার এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নারায়ণ হেলথ-এর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কর্ণাটক রাজ্য সরকারের মহামারি মোকাবিলা টিমের উপদেষ্টা ড. দেবী শেট্টি বলেন, যদি আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা অনেক বেশি হয় তাহলে আমরা প্রস্তুত নই। শেষ মুহূর্তে কিছু করা সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, এটি একেবারে ভিন্ন সমস্যা হয়ে দেখা দিবে। কারণ ভারতে শিশুদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বেডের সংখ্যা খুবই কম। এটি হতে পারে একেবারে বিপর্যয়।

জরিপে অংশ নেয়া ১৪জন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শিশুরা ঝুঁকিতে নেই।

৩৮ জনের মধ্যে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভবিষ্যতের করোনাভাইরাস ভ্যারিয়েন্ট এখনকার টিকাগুলোকে অকার্যকর করতে পারবে না।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে ৪১ জনের মধ্যে ৩০ জন বিশেষজ্ঞ জানান, ভারতে আরও অন্তত এক বছর জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি থাকবে করোনাভাইরাস। এদের মধ্যে ১১ জন মনে করেন, এই হুমকি থাকবে এক বছরেরও কম সময়, ১৫ জনের মতে দুই বছরের কম এবং ১৩ জনের দুই বছরের বেশি। আর দু’জন মনে করেন, এই হুমকি কখনও যাবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী