অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মাস্কেই রাখতে হচ্ছে ভরসা

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মাস্কেই রাখতে হচ্ছে ভরসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:২৯ ১৩ জুন ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মহামারি করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে টিকা নিচ্ছে বিশ্ববাসী। তবে অনেক ক্ষেত্রে টিকা নেয়ার কয়েক মাস পরও দেহে মিলছে না কাঙ্খিত অ্যান্টিবডির উপস্থিতি। ফলে বৈশ্বিক এই মহামারি প্রতিরোধে এখনও মাস্কের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে।

টিকায় তৈরি অ্যান্টিবডির জোরে মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন নির্দেশনা দিলেও সেই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।

যেমন নিউইয়র্কের বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সি মার্ক ফিল্ডস ফাইজারের দু’টি ডোজ নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তার চিকিৎসক কিছু রুটিন টেস্টের সঙ্গে অ্যান্টিবডি টেস্টও দেন। তাতে দেখা গেছে যে, করোনার টিকা নিলেও তার দেহে এর অ্যান্টিবডি নেই বললেই চলে।

বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগের মধ্যে পড়ে যান। প্রশ্নের উত্তর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ বা সিডিসির পরিচালক রশেল ওয়ালেনস্কি-র কাছে ই-মেল করেছিলেন ফিল্ডস। কিন্তু তার কাছে এখনো পর্যন্ত কোনও জবাব পাননি তিনি।

টিকাপ্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো শুরু থেকেই বলে আসছে যে, কোভিড রুখতে কার্যকরী তাদের ভ্যাকসিন। কিন্তু ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা নেই। তবে টিকা নেয়া থাকলে করোনাআক্রান্তের বাড়াবাড়ি হবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো নিরাপদ আর নিশ্চয়তার খোঁজে টিকা নিচ্ছেন।

সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মাস্ক পরাই নিরাপদ। বিশেষ করে যে ভাবে মিউটেশন ঘটাচ্ছে ভাইরাস, তাতে মাস্ক খোলা বিপদ ডেকে আনতে পারে। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশে টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পর মাস্ক পরার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টিকা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য, প্রতিষেধকের কার্যকারিতা বুঝতে অ্যান্টিবডি টেস্ট করানো ভুল। তাদের মতে, অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া মানেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা চলে যাওয়া নয়। কিন্তু কিছু স্বাস্থ্য সংস্থা এর উল্টো কথাই বলেছে এতদিন।

ফলে বিতর্ক, ধোঁয়াশা— কিছুই কাটছে না। টিকার দু’টি ডোজ নেওয়ার পরে মানুষ কত দিন নিরাপদ, তা স্পষ্ট করে না-জানানো পর্যন্ত, ধোঁয়াশা কাটবে না বলে মত এক দল বিশেষজ্ঞের। ফলে টিকার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) জানিয়েছে, যাদের ‘ব্লাড ভেসেল ডিসঅর্ডার’ কিংবা রক্তনালিতে সমস্যা আছে, তাদের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া উচিত নয়। আজ বিবৃতি দিয়ে ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এমন কথা জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, তারা ছয়টি ঘটনা খতিয়ে দেখেই এ সিদ্ধান্তে এসেছে। টিকা নেওয়ার পরে ওই ছয় জনের ক্যাপিলারি লিক সিন্ড্রোম দেখা দিয়েছে। ইএমএ-র দাবি, এ বার এই সিন্ড্রোমটিকেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যোগ করা হোক।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী