ভাঙ্গার ‘গায়েবি মসজিদ’: মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই

ঢাকা, সোমবার   ১৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

স্থাপনার গল্প- ১

ভাঙ্গার ‘গায়েবি মসজিদ’: মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৮ ১১ জুন ২০২১  

রায়নগর আউলিয়া গায়েবি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

রায়নগর আউলিয়া গায়েবি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

গায়েবি মসজিদে কীভাবে যাবো?—ফরিদপুর শহরে নেমে যে কাউকেই এই প্রশ্ন করতে পারেন। হাসিমুখেই আপনাকে পথ দেখিয়ে দেবে। প্রায় ২০০ বছর ধরে মসজিদটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করছে। ফরিদপুরের অনেকেই এই মসজিদে নামাজ আদায় করাকে ‘ভাগ্য’ বলে মনে করেন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্বে এ মসজিদটি অবস্থিত। এছাড়া ভাঙ্গা-মাওয়া সড়কের মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড থেকে খুব কম সময়েই রায়নগর গ্রামে পৌঁছে যেতে পারবেন। এই গ্রামেই এখনও দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি।

নয়নাভিরাম মসজিদেন নাম ‘রায়নগর আউলিয়া গায়েবি মসজিদ’। মসজিদের মাঝখানে একটি অর্ধ গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির প্রবেশদ্বার তিনটি; একটা বড় ও দুটি ছোট আকারের। আলো-বাতাস প্রবেশে জন্য উত্তর ও দক্ষিণের দেয়ালে খোলা-মেলা বড় দুটি জানালা আছে।

মসজিদের চার কোণে রয়েছে মিনার। এগুলো উঁচু ছাদের সঙ্গে সমানতালে মেশানো। প্রধান প্রবেশদ্বারের ওপরে একটি ০.৫২×০.৩৬ মিটারের কালো পাথরে আরবিতে লেখা, শিলালিপির বর্ণনানুযায়ী মসজিদটি ১২১৬ হিজরি/১৮০১ সালে নির্মিত হয়েছিল।

পূর্বপাশের সম্মুখদ্বারের খিলানে প্রবেশদ্বারে কুলঙ্গি শোভা পাচ্ছে। দেয়ালে আছে অলঙ্করণ শৈল্পিকতার জানান দিচ্ছে। নকশাটি পাঁচটি আয়তাকার প্যানেলে তৈরি। যার মাঝের বর্গাকার। উভয়পাশে রয়েছে লতাপাতার কারুকাজ।

রায়নগর আউলিয়া গায়েবি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

ইট-বালু, চুন-সুরকি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই মসজিদ। আকারে ছোট হলেও এর নির্মাণশৈলী খুব মনোমুগ্ধকর। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফুলেল নকশা ও বহুপত্রবিশিষ্ট আকর্ষণীয় খিলান অন্যতম। এর মধ্যে একাধিকবার মসজিদটির সংস্কার হয়েছে।

মসজিদটির বিস্তারিত সব ইতিহাস কেউ বলতে না পারলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছর আগে গোলাম হোসেন নামের একজন মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে মসজিদটির নামকরণ নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিটন মাতুব্বর লিটু জানান, আমাদের জন্মের অনেক আগের মসজিদ এটি। বাপ-দাদার কাছ থেকে যতটা জেনেছি তাতে মসজিদটির বয়স দুইশ’ বছরের বেশি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে