নড়াইলে গ্রাহকের দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

নড়াইলে গ্রাহকের দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৩ ১০ জুন ২০২১  

কালিয়া উপজেলার ব্যাংক এশিয়া চাচুড়ী শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড়

কালিয়া উপজেলার ব্যাংক এশিয়া চাচুড়ী শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড়

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাচুঁড়ী-পুরুরিয়ায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে এজেন্ট খায়রুল বাশার। ঘটনাটি জানাজানি হলে তালাবদ্ধ এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের সামনে গত ৩ দিন ধরে গ্রাহকরা ভিড় জমাচ্ছেন। 

এরই মধ্যে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শাখাটি পরিদর্শন করেছেন এবং সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানা যায়, ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কালিয়া উপজেলার চাচুড়ী-পুরুলিয়া শাখাটি ২০১৯ সালের মাঝামাঝির দিকে স্থাপন করা হয়। এজেন্ট খায়রুর বাশার জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা হারে জামানত নিয়ে শাখাটিতে ১০জন কর্মচারী নিয়োগ দেন। বর্তমানে শাখাটিতে ডিপিএস, মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয়ী হিসাব মিলে প্রায় সহস্রাধিক গ্রাহক নিয়মিত লেনদেন করে থাকেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই মেয়াদি আমানতের গ্রাহক রয়েছেন। 

এছাড়া প্রতি মাসে ২ হাজারেরও বেশি পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের গ্রাহক বিল পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু গত ৩ মাস ধরে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার নোটিশ পাচ্ছেন।

অপরদিকে জানা যায়, ওই ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহকরা গত বেশকিছু দিন ধরে তাদের হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। এছাড়া মাসিক মুনাফা হিসাবের গ্রাহকরা মুনাফার টাকা তুলতে না পারার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় এজেন্ট খায়রুল বাশারকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। 

সর্বশেষ গত সোমবার উপজেলার চাচুড়ী গ্রামের মফিজুল হক, পুরুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, ডহরচাচুড়ী গ্রামের পিটু বিশ্বাস টাকা তুলতে না পেরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে তাদের হিসাব নম্বরে কোনো টাকা জমা নেই। গ্রাহকদের হিসাব নম্বর থেকে টাকা উধাও হওয়া ও বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা না করে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাটি ওই এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তারপর গ্রাহকরা সোমবার বিকেলে ওই এজেন্ট অফিসে ভিড় জমাতে শুরু করে। ততক্ষণে প্রায় ৩কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এজেন্ট খায়রুল বাশার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে ওই ব্যাংকের গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।

যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি ২ এর কালিয়া আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মো.মমিনুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ওই এলাকার প্রায় ২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক ওই ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু গত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ওইসব গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা ওই এজেন্ট গ্রহণ করলেও তা ব্যাংকে জমা দেননি। ওই সমস্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। ঘটনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ব্যাংকটির এজেন্ট খায়রুল বাশারের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরাও গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন।

এ ব্যাপারে  ব্যাংক এশিয়া নড়াইল জেলা ব্যবস্থাপক ফিরোজ হাসান বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শাখাটি পরিদর্শন করেছেন। এরই মধ্যে এজেন্ট কর্তৃপক্ষ ও আমাদের ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে দিয়েছে। অন্যান্য সমস্যাও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কালিয়া থানার ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন, এ বিষয়টি শুনেছি। কেউ অভিযোগ করেননি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ