শিক্ষককে ধরে নিয়ে ফাঁসানো হলো মামলায়!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

শিক্ষককে ধরে নিয়ে ফাঁসানো হলো মামলায়!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৫ ১০ জুন ২০২১  

শরণখোলা থানা: ফাইল ফটো

শরণখোলা থানা: ফাইল ফটো

বাগেরহাটের শরণখোলায় এক স্কুল শিক্ষককে ধরে নিয়ে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আ. কাদের হাওলাদারের ছেলে ও ৪৭ নম্বর শরণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে মামলাটি করা হয়।

বুধবার বিকেলে উপজেলার সোনাতলা (মড়েল বাজার) এলাকার বাসিন্দা মো. কাঞ্চন বয়াতির ছেলে রাজমিস্ত্রী মো.কালাম  হোসেন বয়াতি মামলাটি করেন। এরই মধ্যে ওই মামলায় পুলিশ শিক্ষক শহিদুলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

শিক্ষক শহিদুলের ছোট ভাই মো. হারুন-অরশিদ ও মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শহিদুলকে গত সোমবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় শরণখোলা থানা পুলিশ। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে মামলার বাদী কামাল বয়াতি উপাস্থিত ছিলেন। তবে, শহিদুলকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা ওই সময়  জানান, তার ভাইয়ের নামে অভিযোগ আছে। পরবর্তীতে থানায় আটক অবস্থায় পরের দিন বিকেল ৫টায় কামাল বয়াতি বাদী হয়ে শহিদুলের নামে একটি নারী নির্যাতন মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। 

তারা আরো বলেন, কামাল বয়াতি একজন মামলাবাজ লোক তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে । আমার ভাই ওই স্কুলের হেডমাস্টার হিসেবে যোগদান করার পর স্কুলের সরকারি বরাদ্দের টাকা অন্যান্য শিক্ষকদের একটি চক্র লোপাট করতে না পারায় এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাদেরও যোগসূত্র থাকতে পারে।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহ আলম ও মো. আ. সাত্তার বলেন, ঘটনার দিন আমরা  কেউ স্কুলে ছিলাম না। শিশু শিক্ষার্থীর বাবার কাছে ঘটনাটি শুনে আমরা সামাজিকভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা মানেনি। অপরদিকে, মামলার বাদী মো. কামাল  হোসেন বয়াতি বলেন, ওই লম্পট শিক্ষক আমার শিশু সন্তানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে বিষয়টি আমি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাই কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা হেডমাস্টারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি । তাই বাধ্য হয়ে আমি মামলা করেছি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা মো. জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনি মামলা হওয়ার পর। মামলার বাদী আমার প্রতিবেশী হলেও তিনি আমাকে বিষয়টি অবগত করেননি। এ ঘটনার মধ্যে রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

শরণখোলা থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান জানান, শহিদুলের পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয় । মামলার আগে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২২ ধারায় ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই শিক্ষককে আগে আনা হলেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে মামলা রেকর্ড হওয়ার পর।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ