পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ১২ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:২৩ ১২ মে ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র নগরী জেরুজালেমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কট্টর ইহুদি এবং ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাত বিপজ্জনক লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। এরইমধ্যে গাজা উপত্যকায় চলমান সহিংসতা এই সংঘাতকে আরো ভয়ানকভাবে বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন- হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইসরায়েল আন্দোলন বাড়াতে চাইলে এর কঠোর জবাব দেয়া হবে।

এক ভাষণে তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি আন্দোলন বাড়াতে চায়, তবে এর মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত। আর ইসরায়েল যদি সংঘাত থামাতে চায়, তবেও আমরা প্রস্তুত।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত সোমবার রাত থেকে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৩৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১০ শিশুও। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলের ওই বর্বর হামলার প্রতিশোধ নিতে সোমবার রাত থেকে দফায় দফায় সহস্রাধিক রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস।

ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ভেদ করে হামাসের রকেট আছড়ে পড়ছে তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে। এতে কমপক্ষে ৫ ইসরাইলি নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হয়েছে।

এ ঘটনার ফলে এই প্রথম ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমকে ব্যর্থ করে হামাসের এত সংখ্যক রকেট ইহুদিদের শহরে হামলা চালাতে সক্ষম হলো।

ইসরাইল সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষা ও জননিরপত্তামন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জাতিসংঘের আশংকা তারা সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়ক টর ভেনেসল্যান্ড আহ্বান জানিয়েছেন অবিলম্বে এ সংঘাত বন্ধ করতে।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, চলমান এ সংঘাত বন্ধে উভয় পক্ষের নেতাদের ভূমিকা প্রয়োজন। গাজায় চলমান এ যুদ্ধে সাধারণ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। জাতিসংঘ সবদিকেই শান্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। এখনই সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি।

প্রসঙ্গত, আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। তবে ইহুদিরা জায়গাটিকে তাদের নিজেদের উপাসনালয় হিসেবে দাবি করে।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। এরপর ১৯৮০ সালে পুরো জেরুজালেম তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যা এখনও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে স্বীকৃতি পায়নি।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী