রহস্যজনকভাবে বাবাকে খুন করে বিয়ের পিঁড়িতে মেয়ে, অবশেষে গ্রেফতার

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৮ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

রহস্যজনকভাবে বাবাকে খুন করে বিয়ের পিঁড়িতে মেয়ে, অবশেষে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০২ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ১৬:৪১ ৯ মে ২০২১

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কেউ বাড়িতে না থাকার সুযোগে বাবাকে নৃশংসভাবে গলা টিপে খুন করে মেয়ে। এরপর বাবার মৃত্যুশোক ভুলে কয়েক মাসের মধ্যে বিয়ে করে মেয়ে। তবে বিবাহিত জীবন আর সুখের হল না। ৬ মাস পর হাতে আসা ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই ঘুরল রহস্যের মোড়। সন্দেহের বশে টানা তিনদিন ধরে মেয়েকে জেরার পর শেষমেশ গ্রেফতার করলেন গোয়েন্দারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে গালিগালাজ করতেন বাবা। বাবার এই কীর্তির জন্য একবার বিয়েও ভেঙে গিয়েছিল মেয়ের। শেষপর্যন্ত এর শোধ তোলে মেয়ে। সুযোগ বুঝে কেউ বাড়িতে না থাকায় বাবাকে মেরে ফেলে সে। আর তার কয়েক মাস না যেতেই আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসে সেই মেয়ে। পরবর্তীতে বিয়ের তিন সপ্তাহের মধ্যে ভারতের পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানা ও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার যৌথ তদন্তে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় বাবার খুনি মেয়ে মৌমিতা মাঝি। এদিকে তার শ্বশুরবাড়ি জানলো, তাদের বাড়ির বউ আসলে বাবাকে খুনের অভিযুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২ নভেম্বর। আনন্দপুর থানা এলাকার চৌবাগা মাঝিপাড়ার বাসিন্দা বাপি মাঝি ছিলেন সবজি বিক্রেতা। তার স্ত্রী সুষমা ছেলেকে নিয়ে কাছেই একটি ছোট খাবার দোকান চালান। মেয়ে মৌমিতা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। বাপি মাঝি প্রত্যেকদিন মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে গোলমাল করতেন। চলত অশ্রাব্য গালিগালাজ, পরিবারের লোকেদের মারধরও। স্ত্রী ও মেয়ের নিষেধ কানে নিতেন না বাপি। পাড়ার লোকেরা বাপির আচরণ নিয়ে হাসাহাসিও করতেন। তা পছন্দ করত না মৌমিতা। বছর দু’য়েক আগে একবার ২১ বছরের মৌমিতার বিয়ের দেখাশোনা হয়। কিন্তু বাবার কথা শুনে বিয়েও ভেঙে দেন পাত্রের বাড়ির লোকেরা।

গত ২ নভেম্বর বিকেলে সবজি বিক্রি করে বাড়ি ফেরেন বাপি। তখন বাড়িতে ছিলেন পরিবারের অন্যরা। বাপি বাড়ির সবাইকে জানান, অনেকক্ষণ কিছু খাননি বলে তার বুকে ব্যথা করছে। তিনি ঘুমিয়েও পড়েন। সুষমা ছেলেকে নিয়ে দোকানে যান। সন্ধ্যায় মেয়ে মৌমিতা মায়ের দোকানে যায়। এক ঘণ্টা পর বাড়ি ফেরে। রাতে সুষমা ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখেন, সামনের ঘরে মেঝেতে পড়ে রয়েছেন স্বামী। ভিতরের ঘরে মৌমিতা। স্বামী ঘুমোচ্ছেন মনে করে তাকে ডাকতে যান। তখনই বুঝতে পারেন, তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি চেঁচিয়ে ওঠেন। প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। আনন্দপুর থানায় খবর যায়। পুলিশ দেহটি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের পর বাপির শেষকৃত্য হয়।

এর কয়েকমাসের মধ্যে আনন্দপুরের ভিআইপি নগরের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে মৌমিতার বিয়ের কথা হয়। গত ১৬ এপ্রিল মৌমিতার বিয়ে হয়। কিন্তু গত ২৪ এপ্রিল ঘটনার মোড় ঘোরে। আনন্দপুর থানার হাতে আসে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। তাতে জানানো হয় যে, গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে।

প্রাথমিকভাবে তদন্তের পর লালবাজারের গোয়েন্দাদের ধারণা হয়, বাড়ির লোক বা পরিচিতরা ছাড়া এই খুন অন্য কারো কাজ নয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে মৌমিতাকে জেরা করা শুরু হয়। জেরার মুখে মৌমিতা বলে, সে বাবাকে শুয়ে থাকতে দেখে সন্ধেবেলা মায়ের দোকানে চলে যায়। তখনই সম্ভবত বাইরের কেউ এসে খুন করে। কয়েকজন প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘটনার দিন সন্ধেবেলা ঘরের তালা বন্ধ করে মৌমিতা মায়ের দোকানে যায়। তার কাছে যে বাড়ির চাবি ছিল, তা স্বীকার করেন তার মা ও ভাই।

গোয়েন্দাদের প্রশ্নবানে বিদ্ধ হয়ে একসময় ভেঙে পড়ে মৌমিতা। সে স্বীকার করে, মদ্যপ বাবার আচরণেই ক্ষুব্ধ হয়ে সে বাবাকে খুন করে সে। ২ নভেম্বর বাড়িতে কেউ না থাকা ও একইসঙ্গে বাবা অসুস্থ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এই কাজ সহজ হয়ে যায়।

গ্রেফতার হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে মৌমিতা। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তার নববিবাহিত স্বামীও। ওই যুবক কখনো ভাবতেও পারেননি যে, বিয়ের তিন সপ্তাহ পর জানতে পারবেন যে তার স্ত্রী আসলে প্রয়াত শ্বশুরের ‘খুনি’। মৌমিতাকে জেরা করে আরো কিছু তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ