এক ইনজেকশনের মূল্য ১৬ কোটি!

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

এক ইনজেকশনের মূল্য ১৬ কোটি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৪ ৯ মে ২০২১  

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

এক ইনজেকশনের মূল্য ১৬ কোটি। আর একমাত্র ওই ওষুধটিই পারে ছোট্ট শিশুকে বাঁচাতে। তবে চিকিৎসকদের কাছ থেকে এত বিশাল পরিমাণ টাকার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন ওই শিশুটির বাবা-মা।

সন্তানের রোগমুক্তির আশা যখন ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা ঠিক এমন সময় তাদের পাশে দাঁড়ালো আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের সাহায্যে তোলা সম্ভব হল ওই বিপুল অর্থ। নতুন জীবন ফিরে পেল ছোট্ট শিশুটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারতের আহমেদাবাদের ওই শিশুটির না ধাইরয়ারাজসিং রাঠোর। তার বয়স ৫ মাস।

জানা গেছে, জন্ম থেকে শিশুটি স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি টাইপ-১ নামে একটি নিউরোমাসকুলার রোগে আক্রান্ত। অত্যন্ত বিরল জিনঘটিত এই অসুখ বিশ্বের প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১ জনের হয়। ফলে শিশুটি তার শরীরের কোনো অঙ্গই নাড়াতে পারে না।

সঠিক সময়ে এই বিরল রোগের চিকিৎসা না হলে মৃত্যু অবধারিত। আর এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় ওই ইনজেকশন। মাত্র ২ বছর আগে মার্কিন সংস্থা অ্যাভেক্সিসের তৈরি করা ওষুধটি ছাড়পত্র পায় আমেরিকায়। পরে ব্রিটেনও এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

আসলে ধাইরয়ারাজসিং রাঠোরের মতো যারা ওই রোগে আক্রান্ত, তাদের শরীরে এসএমএন১ জিনটি থাকে না। ইনজেকশনের মাধ্যমে সেটিই তাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। আর তাতেই শরীরের সব পেশী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়। কিন্তু সেই ওষুধের দাম ১৬ কোটি টাকা।

শিশুটির বাবা রাজদীপ সিং রাঠোর বলেন, বুঝতে পারছিলাম আমাদের যা কিছু আছে সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে ও সব সঞ্চয়কে কাজে লাগিয়েও ওই টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। কিন্তু এরপরই এগিয়ে আসে ‘ইমপ্যাক্ট গুরু’র মতো গণ-তহবিল সংগ্রহকারী সংস্থা। মাত্র ৪২ দিনে ২.৬ লাখ মানুষ নিজেদের সাধ্যমতো অনুদান দেন। আর তাতেই উঠে আসে ওই বিপুল অর্থ।

রাজদীপ আরো জানান, যারা টাকা দিয়েছেন তারা কেউ খুব বেশি ধনী নন। বেশির ভাগই সাধারণ মধ্যবিত্ত। কিন্তু তাদের সকলের চেষ্টাতেই সম্ভব হল এই অসম্ভব। বিরল অসুখ থেকে মুক্তি পেল তাদের একমাত্র সন্তান।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ