মিয়ানমারে প্রথমবারের মত ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠন

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

মিয়ানমারে প্রথমবারের মত ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০০ ১৭ এপ্রিল ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে চলমান সামরিক জান্তাবিরোধী আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করেছেন। দেশটির সদ্য ক্ষমতাচ্যুত পার্লামেন্ট সদস্য, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের নেতা ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উক্ত সরকারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যের এ সরকারে মিয়ানমারের ‘ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট’ মান উইন খাইং থানকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জাতীয় ঐক্যের সরকারের ঘোষণা দিয়ে দেশটির কিংবদন্তি গণতান্ত্রিক কর্মী মিন কো নাইং ১০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আপনারা দয়া করে জনগণের সরকারকে স্বাগত জানান। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল জাতীয় ঐক্যের সরকারের। প্রাথমিকভাবে এই সরকারের কয়েকটি পদ নির্ধারিত হয়েছে। আমরা সামরিক শাসনের মূলোৎপাটনের চেষ্টা করছি, তাই আমাদের বহু আত্মত্যাগ করতে হবে।’

তিনি জানান, এই ঐক্যের সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হবে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়। তবে এ নিয়ে জান্তা সরকারের কাছ থেকে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ক্ষমতাচ্যুত সংসদ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত জাতিসংঘে মিয়ানমারের আইনপ্রণেতাদের দূত ড. সাশা বলেছেন, মিয়ানমারের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হলো। নেতা হিসেবে আমরা ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের উৎস কিংবা পেশাগত জীবন বিবেচনা না করেই সবাইকে ভাই ও বোন হিসেবে মর্যাদা এবং সেবা দিয়ে যাব।

তিনি বলেন, এই খুনি সামরিক জান্তার নিপীড়ন থেকে আমাদের জাতির মুক্তির জন্য সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে সবাইকে সমানাধিকার দেওয়া হবে।

সামরিক বাহিনীর হাতে আটক স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট জাতীয় ঐক্য সরকারে নিজেদের বর্তমান ভূমিকায় থাকবেন।

এতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাচিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা দাওয়া লাশি লা। আর ছায়া সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সাবেক স্পিকার নতৃাত্ত্বিক কারেন মাহন উইন খাইং থান।

সাশা বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ভাই, বোনসহ সবার প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

অভ্যুত্থানের পর লাখ লাখ মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রপন্থি নেতা অং সান সু চির মুক্তি দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত সাতশ’র বেশি মানুষ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী