যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করার সময় হয়েছে: বাইডেন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করার সময় হয়েছে: বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ১৫ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:২৯ ১৫ এপ্রিল ২০২১

ছবি: জো বাইডেন

ছবি: জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ অবসানের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রক্তক্ষয়ী এই আফগান যুদ্ধ শেষ করতে আগামী পয়লা মে থেকে দেশটিতে অবস্থান করা মার্কিন সেনাদের ফিরিয়ে নেয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক ঘোষণায় বাইডেন বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধের সমাপ্তি টানার সময় এসেছে। সময় এসেছে সেনাদের ঘরে ফিরিয়ে আনার। তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ করার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশু চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন অগ্রাধিকার।’

২০০১ সালে হোয়াইট হাউসের ট্রিটি রুমে দাঁড়িয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগান যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার প্রায় ২০ বছরের মাথায় স্থানীয় সময় বুধবার একই স্থানে দাঁড়িয়ে এই যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার দুই পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেন।

২০০১ সালে জর্জ বুশের আফগান যুদ্ধ ঘোষণার সময় বাইডেন সিনেটের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। তিনি তখন একজন সিনেটর হিসেবে জর্জ বুশের আফগান যুদ্ধের অনুমোদন দেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাইডেন। বারাক ওবামা চেষ্টা করেও আফগানিস্থান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সফল হতে পারেননি। তখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে ওবামা ও বাইডেনের মধ্যে মতপার্থক্যের কথা সংবাদমাধ্যমে আসে।

হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানান, আগামী ১ মে থেকেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই শেষ মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে আসবেন। তার মধ্য দিয়ে দুই দশকের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে তিনি জানান।

এদিকে পরিষ্কার জয় ছাড়া সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের ব্যর্থতা মেনে নেয়া হয়েছে, নিজেদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন সমালোচনার জন্য নিজেদের উন্মুক্ত করে দিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

“আমরা হামলার শিকার হয়েছিলাম। পরিষ্কার লক্ষ্য নিয়ে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমরা ওই লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি,” বলেছেন বাইডেন।

২০১১ সালে মার্কিন সেনারা আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে এবং আফগানিস্তানে সংগঠনটিকে ‘হীনবল’ করে দেয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

“আর চিরকালীন যুদ্ধটি শেষ করার এটিই সময়,” বলেছেন তিনি।

আফগানিস্তানের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই হাজার ৪৪৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যায় হয়েছে। ২০১১ সালে আফগানিস্তানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এক লাখ ছাড়িয়েছিল।

১ মে, ২০২১ এর মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন বাইডেনের পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু ব্যর্থ হন।

ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া তারিখের পরিবর্তে সেই দিন থেকেই সেনা প্রত্যাহার শুরু করে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন।

“এখন আমি চতুর্থ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যে আফগানিস্তানে আমেরিকান সেনাদের উপস্থিতি দেখভাল করছে। দুই জন রিপাবলিকান, দুই জন ডেমোক্র্যাট। আমি এই দায়িত্ব পঞ্চম জনের কাছে ঠেলে দিব না,” বলেছেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, এই প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাইডেন তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শুরুতেই এমন একটি ঝুঁকিকে বরণ করে নিচ্ছেন যা তার উত্তরসূরীদের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দেখা দিতে পারে; যেমন, আল কায়েদা নিজেদের পুনর্গঠন করে নিতে পারে অথবা তালেবান বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত কাবুল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে।

ব্রাসেলসে নেটো কর্মকর্তাদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে নেটোর কমান্ডে থাকা বিদেশি সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি ছাড়বে।   

ব্লিনকেন বুধবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধানকে ফোন করে কথা বলেছেন এবং আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে।

টুইটারে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি লিখেছেন, তিনি বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী