নারীদের পোশাক টাঙিয়ে বাঁচার চেষ্টা মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

নারীদের পোশাক টাঙিয়ে বাঁচার চেষ্টা মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩০ ৭ মার্চ ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে জোরপূর্বকভাবে ক্ষমতায় আসা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দিন দিন জোরদার হচ্ছে। বিক্ষোভ দমাতে সরকারও বসে নেই। প্রায় প্রতিদিন গুলি হচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এই অবস্থায় সেনা–পুলিশ ঠেকাতে অভিনব এক উপায় বেছে নিয়েছেন মিয়ানমারের নারীরা।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনা ও সাজোয়া যানের গতিরোধ করতে পথে পথে ব্যারিকেড বসিয়েছে বিক্ষেভকারীরা। আর তাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নারীদের পরনের লুঙ্গি!

মিয়ানমারের প্রচলিত একটি সংস্কার হচ্ছে, মেয়েদের পরনের পোশাকের নিচ দিয়ে গেলে তা পুরুষের জন্য অমঙ্গল ও সম্মান হানিকর। প্রাচীন এই সংস্কারকেই বর্তমানে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিক্ষোভকারীরা।

বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন সড়কে কাপড় শুকানোর দড়িতে লুঙ্গি আবার কোথাও কোথাও নারীদের অন্তর্বাসও মেলে দেয়া হয়েছে।

সেনা চলাচলের পথগুলোয় আড়াআড়ি রশি বেঁধে সেখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এসব পোশাক। এমনকি পথের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে নারীদের পোশাক। এতে কাজও হচ্ছে। অনেক এলাকা মাড়াচ্ছেন না নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন।

আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সেনা–পুলিশের জন্য নারীদের এ লুঙ্গি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়া কোনো বিষয়ই না। তবে বাস্তবে তা ঘটছে না। এ ব্যারিকেড ভাঙতে নারাজ সেনা বা পুলিশ। এমনকি রাস্তায় আড়াআড়ি ঝুলতে থাকা নারীদের পোশাকের নিচে দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে তাদের ঘোর আপত্তি।

দেশটির আন্দোলনকর্মী থিনজার সুন লেই বলেন, চলমান বিক্ষোভে জান্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নারীদের এটা একটা রক্ষণাত্মক কৌশল।

গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ করে আসছেন মিয়ানমারের জনগণ। দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি লোককে, যাদের মধ্যে আছেন ২৯ জন সাংবাদিকও। জাতিসংঘের পাশাপাশি মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরোপ করা হয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী