খাশোগিকে হত্যার অনুমতি দেন সৌদি যুবরাজ: মার্কিন রিপোর্ট

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

খাশোগিকে হত্যার অনুমতি দেন সৌদি যুবরাজ: মার্কিন রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২৬ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৩১ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

খাশোগি হত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স। ফাইল ছবি

খাশোগি হত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স। ফাইল ছবি

নির্মমভাবে খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগি ছিলেন সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক। তাই শুরু থেকেই হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হচ্ছে। অবশ্য যুবরাজ এই হত্যায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বিন সালমানের যোগ রয়েছে তা প্রায় নিশ্চিত করেই এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স।

ব্রিটেনের জাতীয় পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ‘জামাল খাসোগি হত্যায় সৌদি সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক চার পৃষ্ঠার একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সিআইএ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের দফতর ওই প্রতিবেদন নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের মূল্যায়ন হলো, জামাল খাসোগিকে আটক বা হত্যা করতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অভিযান চালানোর অনুমোদন দেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবে যুবরাজ বিন সালমানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে আমরা এই মূল্যায়নে পৌঁছেছি।’

এদিকে ২০১৯ সালে জামাল খাশোগির হত্যার এক বছর পর প্রথমবার এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নীরবতা ভাঙেন বিন সালমান। হত্যার দায় পরোক্ষভাবে নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন সেই সময়। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, তিনি যেহেতু যুবরাজ তাই এ খুনের দায় তারও।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক গভীর হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় সৌদি আরবকে। এদিকে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ধারণা করা হচ্ছে, বাইডেন ও সৌদি বাদশাহের এই ফোনালাপ ২০১৮ সালে খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন প্রতিবেদনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের টেলিফোনে আলাপে খাশোগি হত্যাকাণ্ড এবং যুবরাজ মোহাম্মদ নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি-না তা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। তবে এক বিবৃতিতে বলা হয় - প্রেসিডেন্ট বাইডেন ‘আইনের শাসন এবং সার্বজনীন মানবাধিকারের’ প্রতি তার শক্ত অঙ্গীকারের কথা বলেছেন।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লুজাইন আল হাথলুল সহ বেশ ক’জন সৌদি মানবাধিকার কর্মীর কারামুক্তিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ‘ইতিবাচক’ অগ্রগতি হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।

গতানুগতিক এই বিবৃতিকে অবশ্য তেমন গুরুত্ব দেয়নি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকরা।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বাইডেন ও সালমান উভয় দেশের সম্পর্কের গভীরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি ইরানি সহযোগিতা বন্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের এই সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার শরীর টুকরো টুকরো করে গুম করে দেয় একদল গুপ্তঘাতক। সেদিন নিজের বিয়ের কাগজপত্র আনতে তিনি ওই কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/মাহাদী