হিজাব পরেই হোয়াইট হাউজে ফিরলেন ট্রাম্পের বিদ্বেসের শিকার সেই রুমানা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

হিজাব পরেই হোয়াইট হাউজে ফিরলেন ট্রাম্পের বিদ্বেসের শিকার সেই রুমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ২৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৪০ ২৮ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: রুমানা আহমেদ

ছবি: রুমানা আহমেদ

হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্বেষের শিকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রুমানা আহমেদ।

মাথায় হিজাব পরে হোয়াইট হাউজে কাজ করায় তিনি ট্রাম্পের টিমের বিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি হোয়াইট হাউজ ছাড়লেও নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে আবারো হোয়াইট হাউজে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়ার (ইউএসএজিম) রিভিউ প্যানেলের সাত সদস্যের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছেন।

হিজাব পরায় ট্রাম্পের টিমের কাছে প্রায়ই অপদস্ত হতেন রুমানা। তাকে কেউই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারত না। ২০১৭ সালে পদত্যাগের নেপথ্য এই কারণগুলো জানিয়ে দ্য আটলান্টিকে একটি কলাম লেখেন রুমানা। ওই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

রুমানা কলামে লিখেন, ‘আমার কাজ ছিল দেশের সেবা করা। ওয়েস্ট উইংয়ে আমি ছিলাম একমাত্র হিজাবি নারী। ওবামা প্রশাসন সব সময় আমাকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সব বদলে যায়। অন্য মুসলিমদের মতো ২০১৬ সালে আমিও ট্রাম্পের কাজকর্ম দেখতে থাকি। আমি ভেবেছিলাম, দেশের জন্য তার প্রশাসনে আমার থাকা উচিত। কিন্তু আমি মাত্র আটটা দিন টিকতে পেরেছিলাম সেখানে।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যখন সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, তখনই বুঝে যাই আমার আর সময় নেই। ভাবতে থাকি, এমন একটা প্রশাসনে কাজ করি, যারা আমাকে অধীনস্ত নাগরিক মনে করে, হুমকি হিসেবে দেখে। আমি ১২ বছর বয়স থেকে হিজাব ব্যবহার শুরু করি। পরিবার আমাকে উৎসাহিত করলেও এটা আমার নিজেরই পছন্দ ছিল। এটা ছিল আমার বিশ্বাসের, সত্ত্বার এবং সহনশীলতার প্রতীক।’

প্রসঙ্গত, রুমানার বাবা ১৯৭৮ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তার মা দেশটিতে একটি দোকানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে নিজের উদ্যোগে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করেন। বাবা ব্যাংক অব আমেরিকায় লেটনাইট কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরে একটি শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রমোশন পান। রুমানার বাবার স্বপ্ন ছিল পিএইচডি করবেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে তার সেই স্বপ্ন থেমে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় রুমানার বাবার মৃত্যু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী