অন্ধবিশ্বাসের জেরে দুই মেয়েকে হত্যার পর শিক্ষিত দম্পতির দাবি, ওদের বাঁচিয়ে তুলতে পারবো

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

অন্ধবিশ্বাসের জেরে দুই মেয়েকে হত্যার পর শিক্ষিত দম্পতির দাবি, ওদের বাঁচিয়ে তুলতে পারবো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১১ ২৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:১১ ২৬ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মা-বাবার হাতে খুন হলেন দুই বোন। পুলিশের ধারণা, এই ঘটনার পিছনে অন্ধবিশ্বাস জড়িত কোনো প্রথা রয়েছে। রোববার অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার মাদানাপাল্লে মণ্ডলে ভয়ঙ্কর এই ঘটনা ঘটেছে। 

আনন্দবাজারর প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই তরুণীর নাম আলেখ্য এবং দিব্যা। আলেখ্যা ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করতেন। দিব্যা চেন্নাইয়ের একটি গানের স্কুলে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করতেন। লকডাউনের সময় থেকেই তারা বাড়িতে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ এসে দেখে, তারা দুইজনই লাল শাড়ি পরা অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে আছেন। তাদের মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। জানা গেছে, ডাম্বল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাদের খুন করা হয়েছে। 

প্রতিবেশীদের থেকে খবর পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন নিহত দুই তরুণীর মা দাবি করেন, এক দিন সময় পেলেই তারা মেয়েদের বাঁচিয়ে তুলতে পারবেন।

মেয়েদের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-মা হলেন ভি পদ্মজা এবং ভি পুরষোত্তম নাইডু। তাদের দুই জনের বয়সই ৫০-এর ঘরে। তারা দুইজনেই উচ্চশিক্ষিত এবং শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। পুরষোত্তম মেয়েদের একটি সরকারি কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল। রসায়ণের শিক্ষক। পদ্মজা দাবি করেন তিনি অঙ্কে সোনার মেডেল পেয়েছিলেন। বর্তমানে আইআইটি-র একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়ান। কিন্তু এ উচ্চশিক্ষা ওই দুইজনের অন্ধবিশ্বাসকে দূর করতে পারেনি। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই দম্পতি মনে করতেন, তাদের মেয়েদের মধ্যে কোনো অশুভ শক্তি বাসা বেঁধেছে। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে লাল শাড়ি পরে নিজেদের বাড়ি প্রদক্ষিণ করতেও দেখেন প্রতিবেশীরা। দুই মেয়েকে খুনের আগে তাদের বাড়িতে পুজো হয়েছিল। অনুষ্ঠানের পর রোববার রাতে পদ্মজা দুই মেয়ের মাথায় ডাম্বল দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। সে সময় সামনে থাকলেও পুরষোত্তম কোনো রকম বাধা দেননি বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ। 

পুলিশ এলেও তাদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন ওই দম্পতি। এ নিয়ে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার রবি মনোহরা ছারি বলেছেন, অপরাধস্থলের অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, সেখানে পুজো হয়েছিল। দুই যুবতী লাল শাড়িতে লুটিয়ে পড়েছিল এবং ওই দম্পতি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন।

তিনি আরো বলেছেন, ওই বাড়িতে চারজনই থাকতেন বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। মনে হচ্ছে এই খুনের সঙ্গে অন্ধবিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা বলছিল, একদিন সময় দিলে তারা মৃত মেয়েদের বাঁচিয়ে তুলবেন।

পুলিশ পদ্মজা এবং পুরষোত্তমকে গ্রেফতার করেছে। পদ্মজার মানসিক অবস্থা নিয়েও পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, মেয়েদের খুন করার পর আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা ছিল দম্পতির। যার পিছনে থাকতে পারে একসঙ্গে অন্য ভুবনে যাওয়ার অন্ধবিশ্বাস।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস