সাড়ে ৪৫ হাজার বছর পূর্বের গুহাচিত্রের সন্ধান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাড়ে ৪৫ হাজার বছর পূর্বের গুহাচিত্রের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৬ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:৪৮ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় খোঁজ মিললো বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের। আনুমানিক সাড়ে ৪৫ হাজার বছর আগের আঁকা একটি ছবির সন্ধান পাওয়া গেছে সেখানকার একটি গুহায়।

সিএনএন’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের লেয়াং তেডোঙ্গে গুহায় প্রাচীনতম গুহাচিত্রটি আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

প্রতিবেদনে আরো জানা গেছে, গুহাটি অন্তত ৪৫ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো। তারও পূর্বের হতে পারে। যে গুহায় এই ছবি আবিষ্কৃত হয়েছে সেটিতে বর্ষাকালে প্রবেশ করাই যায় না। বছরের অনেকটা সময়ে পানিভর্তি থাকে এতে। শীতের শুষ্ক সময়েই গুহায় ঢোকা যায়। এবারেও বিশেষ কিছু পাওয়ার আশায় ঢুকেছিলেন গবেষকরা।

সন্ধান পাওয়া গুহাচিত্র

জানা গেছে, ছবিটি গাঢ় লাল রং ব্যবহার করে আঁকা হয়েছিলো। এই রঙের ব্যবহার, এই অঞ্চলে মানুষের বসতি স্থাপনের প্রাথমিক প্রমাণ দেয়। এদিকে গুহাচিত্রে প্রাণীর এ ছবি নিয়ে সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ম্যাক্সিং অবার্ট বলেন, এই ছবিটি যারা এঁকেছিলেন তারা পুরোপুরি আধুনিক ছিলেন, আমাদেরই মতো। তাদের নিজেদের পছন্দসই চিত্রকর্ম আঁকার ক্ষমতা ও সরঞ্জাম দুইই ছিল।

সুলাওয়েসি দ্বীপের লেয়াং তেডোঙ্গে গুহা

সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ সেন্টিমিটার প্রস্থের ছবিটিতে শূকরের মুখে যে শিং আকৃতির পিণ্ড দেখা যাচ্ছে তা ওই প্রজাতিটির পূর্ণ বয়স্ক পুরুষেরই বৈশিষ্ট্য।

ছবিতে দেখা গেছে, শূকরটির পেছনের অংশের ওপরের দিকে দুটি হাতের ছাপও পাওয়া গেছে। শূকরটি অন্য দুই শূকরের দিকে মুখ করে আছে বলে মনে হচ্ছে, যাদের অংশবিশেষই সংরক্ষিত আছে।

সন্ধান পাওয়া গুহাচিত্রের এক অংশ

প্রতিবেদনের অপর এক লেখক অ্যাডাম ব্রুম বলেন, শূকরটি অন্য দুই শূকরের লড়াই বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছিল বলে মনে হচ্ছে।

তবে ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া এই গুহাচিত্রে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণী বা চরিত্রের সবচেয়ে প্রাচীন ছবি মিললেও এটিই মানুষের আঁকা সবচেয়ে পুরনো ছবি নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ