কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সঙ্কটের অবসান হতে চলেছে

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সঙ্কটের অবসান হতে চলেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৮ ৫ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর তিক্ত বিরোধের অবসান হতে চলেছে। দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবসহ আরব অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ প্রায় তিন বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। আকাশপথ, জলপথ ও স্থলপথে অবরোধ আরোপ করে। সেই অবস্থার অবসানই হতে চলেছে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবরে জানা যায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের সৌদি আরব ও কাতার সফরের পর দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। বলা হয়, কাতার সঙ্কটের সমাধান করার মিশন নিয়ে কুশনার এই সফরে এসেছিলেন। এরপর কাতারের সঙ্গে বিরোধ বন্ধে অগ্রগতির ঘোষণা দেয় কুয়েত। এরপর শুক্রবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন, কাতারের সঙ্গে বিরোধের অবসান দ্রুতই হতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছিল কাতারকে বিচ্ছিন্ন রাখার মাধ্যমে।

এতে বলা হয়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর যখন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের সঙ্গে সব রকম ব্যবসা, সফর বাতিল করে তখন থেকেই এই সঙ্কট সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েত।  তারই অংশ হিসেবে বুধবার দোহা’য় আলোচনায় বসেন জারেড কুশনার। তিনি বৈঠক করেন সৌদি আরবেও। এরপর ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে রোমে এক কনফারেন্সে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সাউদ বলেন, কুয়েতের অব্যাহত তৎপরতার অংশ হিসেবে গত কয়েকটি দিনে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পেরেছি। এতে সমর্থন থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করি, এর ফলে চূড়ান্ত একটি চুক্তি করতে পারবো আমরা এবং তা খুব তাড়াতাড়িই। আমি আরো বলতে পারি যে, আমি আশাবাদী এ ব্যাপারে যে, এই বিরোধে জড়িত সব দেশের মধ্যেই আমরা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি।

এসব আলোচনা সম্পর্কে জানেন ওয়াশিংটনের এক সূত্র বলেছেন, সব পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছা গেছে। তা আগামী দু’এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, তারা আসলে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন এবং সেটি স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়ে কাজ করছেন।  রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা বলেছে, এ অগ্রগতিকে শুক্রবার স্বাগত জানিয়েছেন কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমাদ আল সাবাহ।  তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন সংহতি, ঐক্য এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে। এই চুক্তি সেটাই বলে দিচ্ছে। ওদিকে শুক্রবার বাহরাইনে এক সামিটে বক্তব্য রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুবই আশাবাদী যে, এই বিরোধ সমাধান হতে চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। এর মধ্যে কাতারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। বাহরাইনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। চুক্তির অধীনে প্রথমেই কাতারের জন্য উপসাগরীয় আকাশসীমা খুলে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ