ফাইজারের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য

ঢাকা, রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১০ ১৪২৭,   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ফাইজারের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৩ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:০৯ ২ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে ফাইজার/বায়োএনটেকের করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এমএইচআরএ বলছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ সক্ষম এই ভ্যাকসিনটি এখন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষজনের ওপর ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হবে।

এর মধ্যেই চার কোটি ভ্যাকসিনের জন্য চাহিদা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, যা দিয়ে দুই কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া যাবে। জনপ্রতি দুইটি করে ডোজ দেয়া হবে। খুব তাড়াতাড়ি এক কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ পাওয়া যাবে।

ভ্যাকসিন যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দশকের বেশি সময় লেগে যায়, সেখানে মাত্র ১০ মাসে এই ভ্যাকসিনের আবিষ্কারের প্রক্রিয়া শেষ করা হলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হলেও মানুষজনকে এখনো সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে এবং করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য সতর্কতার নিয়মকানুন কড়াকড়িভাবে পালন করতে হবে।

এর মানে হলো, এখনো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে উপসর্গ দেখা গিলেই পরীক্ষা করাতে হবে এবং তাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে।

এখনো পর্যন্ত ছটি দেশে ৪৩ হাজার ৫০০ জনের শরীরে ফাইজার ও বায়োএনটেক ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং এতে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু দেখা যায়নি।

সারা বিশ্বে বেশ কিছু ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। তার মধ্যে কয়েকটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

তার মধ্যে এই প্রথম এই ভ্যাকসিনটির এরকম সাফল্যের কথা জানা গেল।

এই ভ্যাকসিনটির ক্ষেত্রে একেবারে ভিন্ন ধরনের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে তোলার জন্য ভাইরাসটির জেনেটিক কোড শরীরে ইনজেক্ট করা হয়।

আগের পরীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে ভ্যাকসিন দেওয়ার ফলে শরীরে এন্টিবডি এবং রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার আরো একটি অংশ যা টি সেল নামে পরিচিত সেটিও তৈরি হয়।

তিন সপ্তাহ ব্যবধানে এই ভ্যাকসিনের দুটো ডোজ দিতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্কে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার সাত দিন পর ভাইরাসটি প্রতিরোধে মানবদেহে ৯০ শতাংশ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী