এয়ারপোর্টে নবজাতককে ফেলে যাওয়া নারীকে চিহ্নিত করল কাতার

ঢাকা, শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ২ ১৪২৭,   ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এয়ারপোর্টে নবজাতককে ফেলে যাওয়া নারীকে চিহ্নিত করল কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১০ ২৪ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এয়ারপোর্টে নবজাতক কন্যাকে ফেলে পালিয়ে যাওয়া নারী যাত্রীকে চিহ্নিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। গত মাসে ওই নারী তার নবজাতক কন্যাকে দোহা এয়ারপোর্টের একটি ডাস্টবিন বক্সে ফেলে পালিয়ে যান।

কাতার কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই নারী এশিয়ার একটি দেশের নাগরিক। তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করার জন্য কার্যক্রম চলছে। তবে ওই নারীর দেশ বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ওই সন্তানের বাবা-মাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার শুরুর দিকে এয়ারপোর্টে উপস্থিত থাকা অন্য নারীদের আগ্রাসীভাবে যাচাই করার জন্য এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ তোপের মুখে পড়েছে।

এয়ারপোর্টের ডাস্টবিনে নবজাতককে পাওয়ার পর পরই কর্তৃপক্ষ এয়ারপোর্টে থাকা সব নারীকে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। কাছাকাছি থাকা বিমান থেকে নারী যাত্রীদের নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে পরীক্ষা করা হয় যে কেউ সাম্প্রতিক সন্তান জন্ম দিয়েছেন কি না।

কাতার থেকে সিডনির উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা একটি বিমানে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন নারী ছিলেন; তাদেরকেও তাদের অসম্মতিতে পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন পর্যন্ত নিন্দা প্রকাশ করেন।

কাতার সরকার বলেছে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই অক্টোবর একটি নবজাতককে অনিরাপদ অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই পরিস্থিতি নবজাতকের মাকে খুঁজতে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, যা অনুচিত ছিলো।

কয়েকজন নারী যাত্রী অভিযোগ করেছেন, তাদেরকে বিমান থেকে নামিয়ে এনে পরীক্ষা করা হয় এবং এ সময় তাদেরকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি বা তাদের অনুমতিও নেয়া হয়নি।

এ ঘটনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম মানা হয়নি, এবং তিনি যে নারী যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের কাছে “আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা” করেন।

কাতার কর্তৃপক্ষ বলেছে, নবজাতকের মা অন্য একটি এশিয়ান দেশের একজন পুরুষের সাথে সম্পর্কের ফল হিসেবে সন্তান জন্ম দেন, এবং জন্মের পরই তিনি সন্তানের বাবাকে নবজাতকের ছবি পাঠান। শিশুটি এখন কাতার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছে।

এয়ারপোর্টে নবজাতককে ফেলে যাওয়ার ঘটনাও তিনি তার পুরুষ সঙ্গীকে জানান। নবজাতকের বাবা বর্তমানে কাতারি কর্তৃপক্ষের কাছে আছেন। তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়, এবং কিভাবে তিনি কাতার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চিহ্নিত হলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। আপাতত ওই নারীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী