ন্যাটোর সঙ্গে এরদোগানের দ্বন্দ্বে হুমকিতে তুরস্কের অর্থনীতি

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ন্যাটোর সঙ্গে এরদোগানের দ্বন্দ্বে হুমকিতে তুরস্কের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১১ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস শুরুর পর ন্যাটো জোটের মিত্রদের সঙ্গে তুরস্কের বিরোধের জের ধরে ডলারের অনুপাতে তুরস্কের মুদ্রার রেকর্ড পরিমাণ দরপতন হয়েছে। এছাড়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার।

বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে তুরস্কের মুদ্রাস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি ও সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অসম্মতির কারণে মুদ্রার দরপতন হয়েছে। সুদের হার বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারে ও তুরস্কের মুদ্রা লিরা কিনতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করেন তারা।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, লিবিয়া, সিরিয়া ও সাইপ্রাসের আশেপাশে এবং ককেশাস অঞ্চলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের শক্তি প্রদর্শনের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ক্ষুণ্ণ হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট এক তুর্কি নাগরিক বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তুরস্কের মুদ্রা লিরা দুর্বল হয়ে যাওয়ার পেছনের নতুন কারণ।

তুরস্কের রাবো ব্যাংকের বিশ্লেষক পিওতর ম্যাটিস বলেছেন, তুরস্কের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন বিজয়ী হলে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ (অ্যান্টি এয়ারক্রাফট) মিসাইল সিস্টেম কেনার কারণে বড় ধরণের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে দেশটির ওপর। পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির বিষয়টিও বাজারে উদ্বেগের কারণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

চলতি বছরে তুরস্কের মুদ্রা লিরা ২৬ শতাংশ মান হারিয়েছে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, মুদ্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ১৮ মাসে তারা ১০ হাজার কোটি ইউরোর বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।

মহামারি করোনাভাইরাসও তুরস্কের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একদফা খারাপ পরিস্থিতি পার করে আসার পর তুরস্কের করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও গত কিছুদিন ধরে ইউরোপের অন্যান্য জায়গার মতো তুরস্কেও ফের সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে।

লিরার দরপতন ঠেকাতে শত শত কোটি ডলার বিক্রি করে দেয়ায় তুরস্কের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরেই তুরস্কের অর্থনীতির বড় ধরণের সংকোচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র বিতর্ক:

গত ২৩ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিশ্চিত করেছেন যে তুরস্ক বিতর্কিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের পরীক্ষা চালিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করার কারণে তুরস্কের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্ক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমটি চালু করলে নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুতর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর প্রতিক্রিয়ায় রোববার প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, আপনি জানেন না আপনি কার সঙ্গে খেলছেন। আপনার যত নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দিতে পারেন।

তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু সাইপ্রাসে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়ায় ইইউ’র নেতারাও এরদোগানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ইইউ’র একটি সম্মেলনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম উস্কানিমূলক ও একতরফা। এই ঘটনায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিশেষভাবে সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের।

রোববার এরদোগান ফরাসি মুসলিমদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:)- কে অবমাননা করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। ইসলামের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিত্সা দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন এরদোগান। এরপর ফরাসি পণ্য বর্জন করার জন্যেও আরব বিশ্বের সঙ্গে সুর মেলান তিনি।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ