৯ মাসে আফগানিস্তানে ৬ হাজার বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে: জাতিসংঘ

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

৯ মাসে আফগানিস্তানে ৬ হাজার বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৩ ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৬ হাজার বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ব সংস্থাটি জানিয়েছে তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ইউএন অ্যাসিসট্যান্স মিশন ইন আফগানিস্তানের (ইউএনএএমএ) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে আফগানিস্তানে ৫ হাজার ৯৩৯ জন হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন এছাড়া ৩ হাজার ৮২২ জন আহত হয়েছেন।

ইউএনএএমএ’র ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক লোকদের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব সৃষ্টিকারি উচ্চমাত্রার সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। আফগানিস্তান এখনো বেসামরিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার হতাহতের সংখ্যা ৩০ শতাংশ কম। তবে গত মাসে কাতারের রাজধানী দোহায় সরকারি ও তালেবান মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পরেও দেশটিতে সহিংসতা কমেনি বলে জানিয়েছে ইউএনএএমএ। বরং শান্তি প্রচেষ্টার উদ্যোগ সত্ত্বেও এ সময়টিতে তালেবানের তৎপরতা বেড়েছে সেখানে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বেসামরিক হতাহতের ৪৫ শতাংশ ঘটনার জন্য তালেবান দায়ী। ২৩ শতাংশের জন্য সরকারি  সেনারা ও ২ শতাংশের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী দায়ী। অবশিষ্ট অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে যাওয়ার কারণে অথবা আইএস জঙ্গিদের কারণে বা অনির্ধারিত সরকারবিরোধী অথবা সরকারপন্থি বিভিন্ন উপদলের হামলার কারণে ঘটেছে। হতাহতের অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে স্থলযুদ্ধে। এরপর আত্মঘাতী ও রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা হামলায় তারপর তালেবানের পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে ও আফগান বাহিনীর বিমান হামলায় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ মিশন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে দেশটিতে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় মার্কিন বাহিনীর পথ অনুসরণ করে ন্যাটো জোটের অন্য সদস্যদেশগুলোও। আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করে তারা। এরপর থেকে গত ১৯ বছর ধরে দেশটিতে লড়াই চলছে। এই লড়াই শেষ করার লক্ষ্যেই দোহায় শান্তি আলোচনা শুরু করা হয়।

সূত্র- পার্সটুডে

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ